গল্প অভাগী     পর্ব:৭    
    লেখা: রাজকন্যা ( তাবাসসুম)  bd love story

গল্প অভাগী  পর্ব৭  ভালবাসার গল্প, ভালবাসার গল্প কথা, bangla love story, bd love story, রোমান্টিক ভালবাসার গল্প

দুঃখের রাতে খাবারের পর মেঘ আসমা বেগমের ঘড়ে গেলো,, কিরে মা তুই? কিছু লাগবে? কেন তোমার কাছে দরকার ছাড়া আসতে পারি না? আরে, তা না, আয় বস আমার কাছে , মেঘ গিয়ে বসলো, আচ্ছা মা, বাবা কি করে মারা গেলো? আসমা বেগম এএকটু থেমে বললো,,,,,  যখন নীল মারা গেলো তোর বাবাও বেশ অসুস্থ্য হয়ে গেলো, নিজের ছেলেকে এইভাবে দেখবে ভাবে নি,, একদিন হঠাৎ বললো শরীর খারাপ লাগছে,,, তখন আবীর দেশেই থাকে,, আবীর ভাইয়া মানে তো দিবা ভাবির বর তাই না? হুম, কই আমার বিয়েতে দেখি নি তো?


  রোমান্টিক ভালবাসার গল্প তোর বিয়েটা হুট করেই হয়েছে তাই আবীর লন্ডন থেকে আসতে পারে নি তোর বাবা ঐ সময় স্ট্রোক করে মারা গেলো, তখন ব্যাবসার অবস্থাও খারাপ ছিলো,,, তখন আবীর শক্ত হলো,, সাথে আকাশকে মিনের দিক দিয়ে সাপোর্ট দিয়ে ঠিক করলো,,, ঐসময় দুই ভাই হাল ধরলো ব্যাবসার,, আসলে আমার ছেলে ৩ জনি খুব এক্টিভ ছিলো তাদের কাজে, যা করতো মন দিয়ে,, ওরা দুই ভাই ৬ টা মাস অনেক খেটেছে,, তার মাঝে একটা প্রজেক্ট হাতে নিলো,,, দুইজন এত ভালো কাজ করেছিলো যে ঐটাই আমাদের জীবনে জ্যাকপটের মত কাজ করেছে,, এরপর দেশের বাহিরে আমাদের ব্যাবসা দাড়ালো, আস্তে আস্তে বিভিন্ন পার্ট দেশের বাহিরে চলে গেলো আমাদের ব্যাবসার, দেশের বাহিরের টা সামলানোর জন্য আকাশ আবীরকে যেতে আর আকাশ দেশের গুলি দেখবে বললো, তাই আবীর চলে গেলো বাহিরে


আমার দুই ছেলে অনেক কষ্ট করেছে মেঘ,,, আকাশ টা এখনো ওমন জেদ ধরে বসে আছে দেখেই বিয়ে করানো ওকে,, ওর জিবনে একটা ভালোবাসার মানুষ দরকার,,,, যে সব বিপদে ওকে সামলাবে,, আমার মনে হয়েছে তুই সেই মেয়ে যার কারনে তোকে আকাশের জীবনে আমি চেয়েছিলাম কিন্তু মা, এটা অসম্ভব ,,, ওনি আমাকে দেখতেই পারে না,,, ভালো ওনি কখনো আমাকে বাসবে না মা,, তুমি অযথা ভাবছো,, এই দুই দিনে আমি যা বুঝেছি ওনি কখনো আমাকে মেনে নিবে না মা,,মেঘ একটা জিনিস কি জানিস?   


ভালবাসার গল্প ছেলেরা কিন্তু বাহিরে দেখায় অনেক শক্ত,, কিন্তু ভিতরে তাদেরো একটা মন আছে,, যাইখানে ভালোবাসাটা লুকানো থাকে,, ওদেরো বাচ্চাদের মতন একটা মন আছে,, আর মেয়েরা হচ্ছে তার চাবি,,, একটা মেয়ে পারে ঐ বাচ্চা মনটা বের করতে,,, ঝগড়া করে নয়, রাগারাগি করে নয়,, বাচ্চাদের যেমন চকলেট দিয়ে কুলে নেওয়া হয়,, তেমনি ছেলেদেরকে ভালোবাসা আর আদর দিয়ে কাছে আনা যায়,, তুই আকাশের বউ,, তোর অধিকার আছে,, বাকিটুকু তুই বুঝে নে,, মেঘ ফ্রিজ হয়ে শুনছিলো,,, এই উল্লোককে দেখাবে ভালোবাসা!!!! দেখা যাবে ভালোবাসা দেখানোর আগেই আমি ইন্নালিল্লাহ,, মা কি এক পিস জন্ম দিছিলা,, ওরে পেটে নিয়ে হইত ডাব কামড়ে খেয়েছিলে তাই এমন ছুবড়ার মত মন বেটার, কিরে মেঘ? কি বিরবির করছিস? না না, কিছু না, তুমি ঘুমাও,, বলেই ওনাকে শুইয়ে দিয়ে, দরজা ভেজিয়ে চলে গেলো মেঘ নখ খাচ্ছে আর ভাবছে,, এই হনুমানটাকে কি করে মানুষ করা যায়,, হাও,??? একে সোজা করা সহজ না,,,, ভাবতে ভাবতে রুমে গিয়ে সোফায় বসলো,, নখ খাচ্ছে আর ভাবছে,,, আকাশ বেডে বসে ল্যাপটপে  কাজ করিছিলো,,, মেঘ এসেছে বুঝতে পেরেছে, কি মনে করে যেনো তাকালো,,, তাকিয়েই তো ধাক্কা খেলো,, গোলাপি ঠোঁট জুড়া কাপছে,, ছোট ছোট চুলগুলি মুখে এসে রয়েছে ",,পিচ্চিদের মত নখ খাচ্ছে,,, আকাশ,, ওকে কখনো খেয়াল করি নি, একদম বাচ্চা বাচ্চা ",,কি রকম করে নখ খাচ্ছে,, আরো বাচ্চা বাচ্চা লাগছে,, ধুর কি সব ভাবছি আমি!!!


  bangla love story এই মেয়ে রাতে খাও নি নাকি,, যে নখ খাচ্ছো,, এত দামি দামী খাবার বুঝি পেটে সয় না,,!! ঠিকি তো আমার টাকায় খাও বসে বসে,, ইক্সিউজ মি,, মেঘের টাকা না থাকতে পারে কিন্তু মান সম্মান আছে,, যে ব্যাক্তি টাকা আর খাওয়ার খোঁটা দেয় তার খাবার মেঘ ছুয়েও দেখে না বুঝলেন?? আমি আপনার টাকায় চলি না, না আপনার খাবার খাই,, এখন অব্দি আপনার বাড়ির অন্ন আমি মুখে দিই নি সো চিল করেন,, আমার নিজের টাকায় কিনা বিস্কিট খেয়ে আছি, আর আজ থেকে আমি এই বিছানাতেই থাকবো,, বিয়ে যখন আমার অনুমতি ছাড়া করেছে তখন এইটুকু সেয়ার আপনাকে করতেই হবে,, আমি কি ফেলনা নাকি??! আপনি যা বলবেন তা শুনতে আমি বাধ্য নই আপনি কিন্তু বেশি বাড়াবাড়ি করছেন বাড়াবাড়ির দেখেছিস কি??? অবলা পেয়েছিয়া আমাকে?? এই তুমি আমাকে তুই তুকারি করছো,?? তো, তুই আমাকে তুমারি তুমারি করছস কে?? তুমারি মানে?? এই যে তুমি কইতাছিস, আমাকে তুমি ডাকার আগে জিজ্ঞাস করছিস যে তুমি বা অন্য কিছু ডাকতে পারবো কিনা? না ( মাথা নাড়িয়ে)  তাই আমিও তুই ডাকছি আমার ইচ্ছা স্বাধীন, বুঝলি বলেই বিছানার অপর পাশে সুয়ে পড়লো আর মাঝখানে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বর্ডার দিয়ে দিলো কুলবালিশ দিয়ে ,,, এর বাহিরে আপনি আসবেন না, আর আমিও যাবো না,, বলেই পাশ ফিরে ঘুমিয়ে গেলো,,,


আকাশ এখনো হিমালয় পর্বতের মতন সোজা হয়ে আছে,,, এই মেয়ের এত রূপ আছে জানা ছিলো না,, এই লাইট অফ করেন, আমার চোখে লাগছে,, তো আমি কি করবো? আমাই কাজ করছি দেখছেন না? চোখ বন্ধ আছে, তাই দেখছি না, লাইট অফ করেন,, নইত এই ল্যাপটপ আর আস্ত পাবেন না,, লাইট অফ করবো না,, দেখি কি করেন আপনি?!  মেঘ,, শান্তিতে ঘুমাতেও দিবি না,, না,, দেখাচ্ছি মজা বলেই উঠে গিয়ে, রোমের বোর্ড এর কাটাউট খুলে জানালা দিয়ে ফেলে দেয়,,,আকাশ,,,,, ইউ!!!


    motivational speach ইউ নয়,, মেঘলা,, মেঘলা আমার নাম,, এরপর বলেন কি করলেন এইটা?? আমি কাজ করছিলাম,, আমি ঘুমাচ্ছিলাম আমার কাজ জরুরি ছিলো, আমার ঘুমটাও জরুরি ছিলো বলেই মেঘ আবার ঘুমিয়ে পড়লো এই মেয়ে! আকাশ বারান্দার দুলনায় গিয়ে বসে কাজ শুরু করলো না পেরে সকালে মেঘ রেডি হয়ে ভার্সিটি যাওয়ার জন্য বের হলো ,, আসমা বেগমের জন্য আকাশ মেঘকে নিয়ে বের হলো,, মেঘকে ড্রপ করে ও অফিস যাবে,,, বাড়ি থেকে বের হয়ে একটু গিয়েই আকাশ,,,, নামুন, মানে???  

ভালবাসার গল্প কথা মার জন্য আপনাকে সাথে করে নিয়ে এসেছি, আমি আপনাকে সাথে নিয়ে  বাহিরে যেতে পারবো না,, আমার একটা প্রেস্টিজ আছে,, নামুন,, মেঘের খুব মানে লাগলো,,, আমার সাথে গেলে উনার মান সম্মান থাকবে না! মেঘ, আর একটু এগিয়ে গিয়ে নামান, এইখানে কিছুই পাবো না,, তো!? আমি কি করবো?? হেটে যান, বা যা পাবেন তাই দিয়ে যাবেন কিন্তু এখনি গাড়ি থেকে নামবেন,, মেঘ গাড়ি থেকে নেমে গেলো,,, আকাশ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলো মেঘ হেটে যাচ্ছিলো,, হঠাৎ সমুদ্র যাচ্ছিলো বাইক দিয়ে,, মেঘকে দেখেই, আরে মেঘ,,, তুই হেটে কই যাচ্ছিস,??মেঘ হঠাৎ সমুদ্রের গলা পেয়ে তাকালো,, এই সময় কই যাবো বলে মনে হয় তোর???ইডিয়েট কোথাকার না মানে, হাটছিস এই রোদে,, গাড়ি পাচ্ছিনা, তাই হাটছি,, ওকে উঠে আই আমি নিয়ে যাচ্ছি চল, ক্লাসের সময় হয়ে এলো না, প্রবলেম নেই, আই কেন মেনেজ, আরে এখন বাস পাবি না, চল লেইট হচ্ছে,,,


সমুদ্রের জোড়াজুড়িতে রাজি হয়ে গেলো মেঘ,, বাইকের পিছনে বসলো,, কিন্তু এই সিন টা আকাশ দেখলো,,, ও গাড়ি দাড় করিয়ে ফোনে কথা বলছিলো তখনি দেখলো মেঘ বাইক করে যাচ্ছে,,, আর দেখেই মেজাজ ১২০২ এ উঠলো,, ও এইসব চলে তাই না,, আগেই জানতাম এইসব মেয়ে এমনি,, এখন এই ছেলেকে ধরেছে, মেঘ ক্লাস শেষ করে ফারজানার সাথে টিউশন নিয়ে কথা বললো,, আকাশের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা বলে নি তবে বলেছে টিউশান করাবে,,, ফারজানা,,,ওকে আমার বাসার এক আন্টি তার মেয়ের জন্য প্রাইভেট টিউটর খুকছিলো,, আমি তোর কথা বললবো নি,, মেঘলা খুব খুশি হলো,, থাংকস রে,,, তারপর কিছুক্ষন আড্ডা দিয়ে বাড়ি চলে গেলো,,, বাসায় ঢুকতেই,, ঠাসসসসস


চলিবে,,,,



গল্প অভাগী । পর্ব:৬ । ভালবাসার গল্প, ভালবাসার গল্প কথা, bangla love story, bd love story, রোমান্টিক ভালবাসার গল্প, রোমান্টিক গল্প, motivational speach


Post a Comment

Previous Post Next Post