গল্পঃ অভাগী পর্ব:২ 

লেখা : রাজকন্যা ( তাবাসসুম)



মাম্মা দেখছো, ফুলে ফুলে আমাগর ভার্সিটি ভইরা গেছে,,, এত ফুল কই রাখি মাম্মা,, রাব্বি,সমুদ্র আর নিয়নের সাথে এইসব নিয়া ফাইজলামি করতেছিলো, তখনি মেঘলা রাব্বির মাথায় এসে দিলো এক গাড্ডা ,,,, তোদের লজ্জা নেই না?? সমুদ্র বলে উঠলো, লজ্জা হলো মেয়েদের জন্য, ছেলেদের লজ্জা হলে, পর প্রজন্ম আগাবে কি করে? এ কথা শুনে সবাই হো হো করে হেসে দিলো,, ফারজানা বলে উঠলো,,,, চল ত এদের এইসব খাচরাপনা যাবে না,, bangla love story


গল্গঃ অভাগী, পর্ব:২,  ভালবাসার গল্প,ভালবাসার গল্প কথা,রোমান্টিক গল্প, bangla love story


রাব্বি বলে উঠলো, এই মেঘ ( মেঘলাকে মেঘ ডাকা ভালোবেসে ওরা সবাই) তুই  ক ত, তোগর লগে কহনো কোন আকাম করছি,,,??? তোগরে নজেগর বইনের লাহান দেহি, তাই বইলা কি হগগলরে বইন কমু? তাইলে বউ কারে কমু কো! বলেই নিয়ন সমুদ্র, রাব্বি হেসে দিলো,, সত্ত্যি রাব্বি, নিয়ন, সমুদ্র একবারে নিজের ভাবে আমাদের আগলে রেখেছে, কখনো কেউ কিছু বললে ওদের অবস্থা দফা, রফা করে দিয়েছে,বাড়িতে এক দম বন্ধ অবস্থায় থাকি, এইখানে সবার মাঝে এসে নিজের কষ্টটা ভুলেই যাই, ভালবাসার গল্প আমি , আর ফারজানা একসাথে হাটছি, আঁখি, এলিস নিয়ন রাব্বির সাথে কি নিয়ে যেনো কথা বলছিলো,,  কিছুদূর এগোতেই দেখলাম ভার্সিটির ক্রাস বাইকে দাড়িয়ে আছে,, সিল্কি চুল গুলি ব্রাস করা, মুখে চাপ দারি, চোখে সান গ্লাস, হাতে ঘড়ি, অফ হয়াইট কালারের একটা সার্ট পড়েছে, হাতা কনুই অব্দি ফোল্ড করা,, মুখে সেই পাগল করা হাসি,,, ভার্সিটিতে উনার মত পারফেক্ট হইত কেউ নেই, সব দিক দিয়ে উনি সবার আগে,, শিশীর ভাইয়া, উনার আগে পিছে সকল মেয়েরা ঘুরে, ভার্সিটির ক্রাস বলে কথা,, হাঁটতে হাঁটতে উনাকে ক্রস করলাম আমরা, কিন্তু শিশীর ভাইয়া রাব্বি আর সমুদ্রকে ডেকে যেনো কি বললো,,, আমরা সবাই ক্লাসে এসে বসে গেলাম, কিছুক্ষন সমুদ্র, রাব্বি, নিয়ন চলে এসে পড়লো, সমুদ্র, মেঘ তুই আমার পাশে বস আজকে, কেনো? দেখছিস না আমি বসে গেছি, আর তোর সাথে বসবো কেন, তুই রাব্বিদের সাথে বস গিয়ে তুই বসবি না?

না, বসবো না, এইটা বলতেই সমুদ্র হাত ধরে টেনে নিয়ে তার পাশে বসিয়ে দিলো,,, হা করে তাকিয়ে আছি, কি হলো বুঝার চেষ্টা করলাম,, সমুদ্র মুখ শক্ত করে বসে আছে,,, আমি আর কিছু বললাম না ভয়ে,,সব গুলি ক্লাস করলাম, ক্লাস শেষে আজ সমুদ্র ট্রিট দিচ্ছে, কিচ্ছু বুঝলাম না, সবাইকে আজ কাচ্চি খাওয়াচ্ছে,,, আমি নিতে চাইছিলাম না,, সমুদ্র যে গরম চোখে তাকালো, সব কিছু ফেলে নিয়ে নিলাম,, কিরে দোস্ত কি ভাইবা আমাগরে আজ খাওয়াইলি,, ( নিয়ন), হালারপু,, খাওয়াইতাছে খাবি, তা না, বলে রাব্বি মুখ ঝাপটা দিলো,


bd love story সমুদ্র শুধু হাসলো,, মেঘ আমি জানি তুই কি করে বেঁচে আছিস, কিছু সাহায্য করতে চাইলেও ত তুই নিস না,,, কিন্তু তোর ঐ শুকনো মুখ দেখে যে আমার মনের ভিতর তুলপাড় করে, কি করে বুঝায় তোকে,, তোর ঐ সুন্দর মুখের হাঁসিটা যে দেখতে বড্ড লুভ হইরে মেঘ, তুই বলেই আজো পারছিস সব সহ্য করে এমন থাকতে,,, এমন একটা লক্ষী মেয়ের জীবনে এত কষ্ট মানায় না, আমি কখনো সুযুগ পেলে, তখনি নিয়ন বলে উঠলো, কিরে সমুদ্র খা না,, সমুদ্র এতক্ষন মেঘলার দিকে তাকিয়ে এইসব কিছু ভাবছিলো, নিয়নের কথায় নড়ে চড়ে বসে, বললো,, চল সবাই মিলে সাংরাই উৎসব দেখে আসি, সবাই বলে উঠলো হুম চল চল,, কিন্তু মেঘলা বলে উঠলো,, না না আমি যেতে পারবো না, আমার সন্ধ্যার আগে বাসায় যাওয়া লাগবে, আরে, তোরে পরে দিয়া আমু নে,, চল যাই, বেশ মজাই হইবো, না, তোরা যা, আমি যাবো না,

ফারজানা, চল যাই, তারপর তুই আর আমি না হয় কিছুক্ষন পর বেরিয়ে আসবো,, ভালবাসার গল্প কথা


valobasar golp সবার জোড়া জুড়িতে মেঘ রাজি হয়ে গেলো, এখন সাংরাই হচ্ছে পুরান ঢাকা তে, আদিবাসীদের একটা উৎসব, এইটা,,, বাসে গেলে দেরি হয়ে যাবে তাই ওরা চার জন মেয়ে, তিন জন ছেলে,, সবাই ভাবলো বাইক দিয়ে যাবে, তাহলেই আগে যেতে পারবে, ফারজানা আর এলিসকে রাব্বির বাইকে দিলো, আখি আর নিয়ন বেরিয়ে গেলো, বাকি রইলো মেঘ, ও সমুদ্রের সাথে মেঘ, ধুর রাব্বির বাচ্চাটা আমাকে নিয়ে যেতো, শইতানটা চলে গেলো, বির বির করতে করতেই দেখলাম সমুদ্র ক্ষীন দৃষ্টি নিক্ষেপ করছে,,


কি হইয়েছে??? রোমান্টিক গল্প কিছু না, তো উঠ, নাকি এইখানেই সংসার পাতার ইচ্ছা আছে, আর কিছু না বলে মেঘ উঠে গেলো বাইকে,,, মেঘ উঠে বসতেই সমুদ্র বলে উঠলো,,, ভালো করে ধরে বসিস, নইত পড়ে যাবি,হুম

মেঘ একটা রুমে ঘুমটা দিয়ে বসে আছে এখন, আর চোখ দিয়ে পানির ঝর্না বয়ে যাচ্ছে, কোত থেকে কি হয়ে গেলো মেঘলা কিছুই বুঝতে পারছে না, এত বড় রুম।,,ঘড়ের প্রতিটা জিনিস দেখেই বুঝা যাচ্ছে বাহিরের,,, খুব বিলাস বহুল ভাবে সাজানো,,, তাদের এত বড় বাড়ি, তবুও মনে হচ্ছে তার থেকেও এই বাড়ি হাজার গুনে সুন্দর,, প্রতিটা জিনিসের মাঝে অফ হয়াইট আভা লেগে রয়েছে,,, মনে হচ্ছে কোন ইগ্লো হাউজে ঢুকে গিয়েছে,, পুরু রুমটাই ক্যান্ডেল দিয়ে সাজানো, হাল্কা আলো, আর বিভিন্ন ফুল দিয়ে বেড টা সাজানো,,

এতক্ষন বসে চোখ বুলালো রুমটাই মেঘ,, মেঘের মাথা এখনো হ্যাং হয়ে আছে,,, কিভাবে এই কিছু সময়ে ওর জীবনটা বদলে গেলো, ও এইটাই ভেবে পাচ্ছে না তার সৎ মা এত বড়লোক বাড়িতে ওর বিয়ে দিলো?!!!! যে কখনো তার ভালো চায় নি,,, কোন কিছুই মেঘের মাথায় ঢুকছে না ",একটানা কান্না করারায় মেঘের মাথা ধরে গেছে আর চোখ জ্বালা শুরু হয়ে গেছে ওর,,,


চলবে.......


বি.দ্র :


সবাই খুব সাবধানে থাইকেন, যেহুতু করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে দেখা দিয়েছে, তাই নিজেদের সেইফ রাখা নিজেদের দায়িত্ব, আর অন্যকেও জানিয়ে দিবেন এই সব সম্পর্কে,, হাত, ধুয়ার ক্ষেত্রেই জোর দিচ্ছে, সবাই বাহিরে থাকা কালিন হ্যান্ড স্যানেটাইজার দিয়ে হাত ভালো করে ওয়াস করে নিবেন, আঙুল এর ফাঁকে ফাঁকে ভালো করে পরিষ্কার করে নিবেন, বাহির থেকে এসেই সবাই আগে হাত মুখ ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিবেন, আর যা যা সর্তকতা দিচ্ছে সব কিছু সবাই খেয়াল করে মেনে চলেন,, পানি বেশি বেশি পান করবেন, সবার সুস্থতাই আমাদের সকলের কাম্য, একটু সতর্ক থাকলেই চলবে,,কিছু দিন বাহিরে যত কম বের হবেন ততই ভালো, দরকার ছারা বের না হওয়াই ভালো




গল্গঃ অভাগী, পর্ব:১, bangla love story, ভালবাসার গল্প,ভালবাসার গল্প কথা,রোমান্টিক গল্প


Post a Comment

Previous Post Next Post