শেষ চিঠি       লেখা:তাবাসসুম      পর্ব:২(শেষ পর্ব) 


আজ ৭ দিন পর স্নেহা আবার তার ডায়রি নিয়ে বসেছে,, কিমো দেওয়ার পর হঠাৎ খুব অসুস্থ্য হয়ে গিয়েছিলো,,,,




 দিনটা ছিলো সোমবার,,, ক্লাস শেষ করে বাসায় এসে রেস্ট নিচ্ছিলাম,, হঠাৎ কী মনে করে ফোন হাতে নিলাম,, ফেবুতে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দেখছিলাম, হঠাৎ কয়েকটা রিকুয়েস্ট  একসেপ্ট করলাম,, করেই ফ্রেস হয়ে খেয়ে টেবিলে বসলাম,,, তখন হঠাৎ শুভ এসে বলতে লাগে,,,


দোস্ত একক্কান প্রেম করায়া দে,,, এইহানে একলা একলা এমনিতেই, যদি একক্কান গফ থাহে তাইলে  দদুইহান সুখ দুঃখের  কথা কইবার পারুম,,,


তোরে কেউ নিতো না,,, বান্দররে চিড়িয়াখানায় মানায়,, ঐনে যা তোর গফ বফ সব পাইয়া যাবি,,,, তিন্নি


দেখলি দেখলি শাকচুন্নিডার এত জ্বলে কেন রে ,,,, আমার ডা আমি বুঝুম তোর জ্ঞান দেওন লাগতো না,,,,


ঐ থাম তোরা,, আর শুভ তোর পড়া নাই,??? যা ভাগগ,,,


হ্যা হ্যা এহন দুচ্ছাই করবি,,, দুইদিন পর যহন মেমসাহেব চারদিক নিয়া ঘুরুম ঐদিন আমার পা চাটবি,,


কচু চাটমু,,, গোবর মাহাইয়া তোরে জুতা পিটা করবো,,,


শুভ কথা কানে না নিয়ে দরজা অব্দি গিয়ে বলে উঠে,,,


বুঝি বুঝি জ্বলে তোমাগর,,,


তোরে তো,, বলেই তিন্নি একটা কুশান মিলে মারে,, শুভ ছুটে চলে যায়  


আমি দুইজনের ঝগড়া দেখে হাসতে হাসতে বইয়ে মুখ গুজলাম,,,


পড়া শেষ করে বসতেই হঠাৎ মেসেঞ্জারে একটা মেসেজ আসলো,,,, ওপেন করতেই দেখলাম,,,


আসসালামু আলাইকুম,,,,


সাধারনত আননোন কারো মেসেজ রিপ্লাই করি না,, কেন যেনো এইটা করলাম,,, 


সালামের উত্তর দিলাম,,,


কেমন আছেন???


আমি,,,,, আলহামদুলিল্লাহ,,, আপনি??


আমিও আলহামদুলিল্লাহ,,


তা আপনার নাম???         bangla love story


আমি,,,, আপনার নাম কি? আগে আপনাকে জেনে নিই,,


ছেলেটি হাসির ইমোজি দিয়ে লিখলো,, আমি মাহিন,, বাড়ি রংপুর, টাকার জন্য ইউ কে তে থাকি,,,


আমি অবাক হয়ে গেলাম,, ইউ কে তে থাকে!!! তারপর আমি জিজ্ঞেস করলাম


তা কি করেন এই দেশে???


রেস্টুরেন্ট জব,,, আর মাঝে মাঝে ডেলিভারি দেয় খাবারের,,, আর নিজে যখন সময় পাই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি,, তাতে যতটুকু টাকা পাওয়া যায়,,,


ও,, তা কেমন লাগে পরিবার ফেলে এইখানে আসাটা,,,????


প্রথম খারাপ লাগতো আম্মুর জন্য বেশি,, এখন ঠিক হয়ে গেছে ,, আব্বু ছিলো এতো বছর,, আমি আসার পর আব্বুকে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছি,, আম্মু একা তাই,,,,


ও গুড,,,


তা আপনার সম্পর্কে এখন কিছু বলা যাবে????


হ্যা বলবোই তো কথা যেহুতু বলছি,, আচ্ছা আপনাদের রেস্টুরেন্টের নাম কি????


ছেলেটি নাম বলার পর আমি অবাক,, কারন আমাদের যে পিজ্জা দিয়ে গিয়েছিলো ঐ ঠিকানাটাই বললো,,, আমার হঠাৎ মনে হলো ঐ ছেলেটাও তো রংপুর বাড়ি বলেছিলো,,, এতোটাই মিল!!!!!


নিজের কনফিউশান নিজের কাছে রেখেই কথা এগুতে লাগলাম,,,


এরকম করে কথা চলতে থাকলো


প্রতিদিন রুটিন হয়ে গেলো উনার সাথে কথা বলা,,, বলতে গেলে সারাদিনি কথা হতো উনার কাজের ফাঁকে ফাকেঁ আর আমার ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে,, কাজ শেষে দুইজনি একি সময় বাসায় আসতাম,,, আমি এখনো বলি নি যে আমি ইউ কে তে থাকি,, আর উনিই যে সেই ছেলে তা বুঝে গেছি এরপরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য একদিন ছবি চেয়ে বসলাম,, কারন এক অন্যরকম পর্যায়ে চলে গেছিলো উনার কেয়ার গুলি,, যদিও উনি মেয়েদের থেকে দূরে থাকেন, আমাকে নাকি অন্যরকম মনে হয়েছে উনার,,  আর আমি নিজেও শুভির বাহিরে কোন ছেলের সাথে মিশি নি,,, শুভ হচ্ছে আমার ঝুটি কালের বন্ধু,,, মানে হইলো গিয়ে স্কুল লাইফ থাইকা, এক্কেবারে আন্ডা কালের বন্ধু,,,  


ছবি চাওয়ার বল মাহিন বলে উঠলো,,,


ছবি দিওন যাইতো না,,,


আমি,, হা,,, ছেলের কী ভাব,, আমি মেয়ে হয়ে চাচ্ছি আর উনি দিতে চাচ্ছেন না,,,


রাগে বললাম ওকে,,,     bd love story


রাগ করছেন???? মাহিন


না,, আচ্ছা আপনি আমাকে তুমি করে ডাকতে পারেন,,, প্রথম দিন উনি আমাকে জিজ্ঞেসা করেছিলো,, তুমি নাকি আপনি বলবো???


আমি বলেছিলাম যেহুতু অপরিচিতো তাই আপনিই বলুন,,,,


মাহিন আমার এই কথা শুনে বলে উঠে,,, যাক প্রথম কাজ কমপ্লিট


আমি বললাম,,, মানে?????


মানে হলো,, এইযে,, আপনি থেকে তুমিতে আসছি,,,


আমি হেসে দিলাম,,, এমন করে কথা চলতে থাকলো


পরদিন ক্লাস শেষ করে,,, মাহিনের রেস্টুরেন্ট এই গেলাম,,, উনি যেই সময় থাকেন ঠিক সেই সময়ি গেলাম,, খাবার অর্ডার করলাম কিন্তু ওনাকে পেলাম না,,, যার জন্য আসা তাকেই পাচ্ছি না,,, মনটাই খারাপ হয়ে গেলো,,, শুভ তিন্নি আমার মন খারাপ দেখে জিজ্ঞেসা করছিলো কি হয়েছে,, আমি মাথা ব্যাথা বলে কাটিয়ে দিয়েছি,,,


হঠাৎ আমার চোখ সামনের দিকে আটকে গেলো,,,  মাহিন দারিয়ে কথা বলছে রিসিপশানে আর টাওয়েলে হাত মুচচ্ছে,,,


আমি তাকিয়ে হাসছি আর খাবার নাড়াচ্ছি,,


শুভ আমার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে আমি বুঝতে পারছি কিন্তু কেনো যেনো আমি চোখ ফিরাতেই পারছিনা ছেলেটার থেকে,,, আমি হঠাৎ বলে উঠলাম,,,


দোস্ত মানুষ কি টাওয়েল হতে পারে ( ভাবলেশহীন ভাবে) ???? হইতে পারলে আমারে কইরা দে না প্লিজ,, বলেই আবার মুচকি হাসছি,,,


তিন্নি শুভ তাকিয়ে উঠে একসাথে,,,, শুভ বলে উঠে,,, ঐ শাকচুন্নি তুই ওরে গাঞ্জা টাঞ্জা খাওয়াইছস নাকি!!!! কিসব কইতাছে


লাত্থি খাইবি কুত্তা,,,


শুভ আমাকে নাড়িয়ে বলে উঠলো,, এইযে টিস্যু পেপার কি এতো দেখো,,, বলেই আমার দৃষ্টি অনুসরন করে তাকিয়ে দেখলো,,,


মাহিন চলে গেলো আর আমার হাসিটাও অফ হয়ে গেলো

শুভ তা বুঝতে পেরে বলে উঠে কিরে দোস্ত,, তোর মনে তো লাড্ডু ফুইটা গইলা গেছে,,, কবেত্তে এইসব স্টার্ট করলি?? আর আমরা কেন কিছু জানি না???


আমি ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলাম,,, কিসের লাড্ডু ফুটে!!!!


ওরে মা, এহন কিছুই বুঝো না,? পুলাডারে চিনোস??


কোন ছেলে??? একটু নড়ে


দেখ রাগ উঠাইস না,, কানের নিচে দিলে বুঝবার পাইবা কেঠা


আ আস লে তেমন কিছু না,,, ফেবুতে কথা হয় আর আমি জানতাম এইখানেই কাজ করে তাই


তাই?? ভ্রু উঁচিয়ে শুভ তিন্নি বলে উঠলো,,,


দেখ দোস্ত আমি নিজেই কনফিউজড,,, আর উনি মেয়েদের থেকে দূরে থাকে,,,


ওরে শালা,,, তোরে কোন হানদিয়ে পুলা মনে হইলো যে তোর লগে কথা কয়


আরে না রে,, আমাকে উনার অন্যরকম লাগছে তাই


অন্যরকম না ছাই,, সবাই পটাইবার আগে এইডাই কই আর তুই পইটা গেছত আহাম্মক


উফফফ নারে,, আমাকে এখনো দেখে নাই উনি, ফেবুতে তো আমার নিজের ছবি দেওয়া নাই,,, আর উনাকে বলা হয় নি   যে আমি ইউ কে তে থাকি,, আমার বায়ো উনি দেখতে পারবেন না উনি এখনো ফেবুতে এড হয় নি আমার,, 


দেখ এইটা কি আমি জানি না কিন্তু উনার সঙ্গ আমার ভালো লাগে,,, বলেই উঠে চলে গেলাম,,,


রিসিপশানে দাড়াতেই ,, কিছু বলবেন ম্যাম????


আপনি বাঙালি???


জি ম্যাম,, আমাদের এইখানে বেশির ভাগ স্টাফি বাঙালি,,,


ওকে,,, শুনুন,,, আপনাদের তো বাধা কাস্টোমার নেই, তাই না??


না ম্যাম,, একেক দিন একেক লোক


আমরা তিনজন রেগুলার আপনাদের খাবার অর্ডার করবো বা এইখানে আসবো, কিন্তু একটা শর্ত আছে আমাদের খাবার সার্ভ করবে ঐযে মাত্র যে ছেলে আপনার সাথে কথা বলে গেলো ঐ ছেলে,,,


কে??? প্রত্যয়!!!


প্রত্যয় উনার নাম???


হ্যা ম্যাম


শুভ,, দেখছোস নামডাও ভুয়া,,,


তিন্নি,, ঐ ওইটা ডাক নামো হইতে পারে,, নেগেটিভ নেস কেন আগেই,,,


ওকে যাই হোক,, এইকথা আপনার আর আমাদের ভিতরেই থাকবে,,, এই হলো আমার নাম্বার,,, এইটা থেকে কল আসলে ওকেই পাঠাবেন,, আর আমি এক্ট্রা ৫ পাউন্ড আপনাকে দিবো ( ইউ কের টাকাকে পাউন্ড বলা হয়)  

লোকটি খুশি হয়ে রাজি হয়ে গেলো,,


আর এইকথা যেনো উনি না জানে,,, বলেই চলে এলাম


বসে ভাবছি আমাকে মিথ্যা বললো??! পরক্ষনেই মনে হলো বাংলা সিনেমার মতো সব না জেনেই রিয়েক্ট না করাই ভালো,, উনাকে উনার সম্পূর্ন নাম জিজ্ঞেসা করলেই পাওয়া যাবে,,,


রাতে উনার সাথে কথা বলার পর  এক সময় জিজ্ঞেসা করলাম


আপনার সম্পূর্ন নাম।কি?????         জীবনের গল্প


ওহ এইটা বলা হয় নি তোমায়,,, আমার সম্পূর্ন নাম, মাহিন আহমেদ প্রত্যয়,, সবাই মাহিন ডাকে আর এইখানে প্রত্যয় নামে চিনে সবাই,,,


আমার মুখের হাসি প্রস্বস্ত হয়ে গেলো,,,,


স্নেহা,, আমি কি তোমার ফেবুতে এড হতে পারি????


আসলে আপনাকে একটা কথা বলার ছিলো,,,


হ্যা বলো,,,,


আমি ইউ কে তে থাকি,, পড়াশুনার জন্য এই বছর এসেছি,,,


মাহিন কত্তগুলা অবাক হওয়ার ইমোজি দিলো,,,


তুমি আমার দেশেই আর তুমি আমাকে এখন বলছো!!!


না মানে


কোথাই থাকো?


আমি জায়গাটা বললাম কিন্তু ঠিকানা দিলাম না,,,


আচ্ছা আপনাকে দেখতে দিবেন না???


উনি হেসে বলে উঠলেন,, দেখে ক্ষ্যাপাতে পারবা না,,,,


ক্ষ্যাপাবো কেনো,,,


দেখতে ভালো না যে,,,


আপনি দেন আগে,,


উনি উনার ছবি দিলো,, হ্যা উনিই সেই যাকে আমি ভেবেছি 


আপনি একদম পিচ্চি পিচ্চি দেখতে কিন্তু


হাহা জানতাম এইটা বলবা,,,


আচ্ছা আপনি তো এস এস সির পর চলে এসেছেন তাই না???


হ্যা


কত সালে এস এস সি দিয়েছেন???


উনি আমার জুনিয়র,, আমার ১  বছর পর এস এস সি দিয়েছেন,, এইটা শুনে যেনো কেমন খারাপ লাগলো,, তারপর জন্ম সাল জিজ্ঞেসা করলাম,,, এইটা শুনে তো মাথা আরো নষ্ট,, আমার থেকে ৩ বছরের ছোট,,,,


চুপ হয়ে গেলাম,,,


উনি মেসেজ দিচ্ছে সিন করছি না,, কেনো যেনো খুব খারাপ লাগছে,, আমি তো উনাকে ভালোবাসি না, উনার কেয়ার গুলি ভালো লাগে তাহলে কেনো এতো খারাপ লাগছে!!!! দেখে বুঝা যাবে না যে আমার থেকে এতো ছোট উনি,,,


ঐদিন আর কথা বললাম না,,,, সারারাত ছটফট করেছি,,, কথা বলাটা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গিয়েছিলো,,, তাই সব ভুলে আবার রাতেই নক দিলাম,,


অনেক কিছু বললো উনি, কেনো চলে গিয়েছিলাম, কেনো ফোন তুলি নি অনেক কিছু,,,


আস্তে আস্তে দিন চলতে লাগলো,,, উনার সাথে কথা বলার ৮ মাস চলে গেলো,,, হঠাৎ করে উনার আম্মু অসুস্থ্য হয়ে গেলেন,, টাকা লাগে অনেক,, তাই কাজ আরো বাড়ালেন উনি,, টাকা বেশির জন্য,, আস্তে আস্তে কথা কম হতে লাগলো,, উনি সারাদিন ব্যাস্ত থাকেন,, রাতে ১১টার পর আসেন তাও তখন ক্লান্ত থাকেন, ভালো করে কথা হয় না,, অনেকবার দেখা করতে চেয়েছি, কিন্তু উনার সময় হয়ে উঠে না,,,,


বুঝতে পারলাম উনার প্রতি এই অনুভূতি কিসের,, হ্যা ভালোবাসার,,, আমার থেকে ছোট,, তাও আমি ভালোবেসে ফেলেছি,, জানি এইটা আমি কোনদিন ও বলতে পারবো না,, কারন উনি একদিন বলেছিলেন এইসব ভালোবাসা আর মেয়েদের ট্রাস্ট করেন না উনি,, মেয়েরা ঠকায় বলে শুধু,, আজ কিছু মেয়ের কারনে আমার ভালোবাসা হইত আমি হারিয়ে ফেললাম,,, সবাই তো ভালোবাসা নিয়ে খেলে না,, এইটা আমি উনাকে বুঝাতে পারি নি,,, উনি আমাকে বন্ধু ভাবেন তাই আমার সাথে মিশেন,, আর বাহিরে উনি আমাকে কিছুই ভাবেন না তাও আমি জানি,,, তবুও ভালোবাসাকে পাওয়ার জন্য শেষ চেষ্টা করবো,, উনার মনে আমার জন্য জায়গা টা পাকা করবো এই পণ নিলাম


,,,,,,,,


দিন গিয়ে মাসে দাড়ালো আর মাহিনের সাথে আমার কথা বলার সুযুগ আর হচ্ছে না,, আমি নক করতাম,, কল করতাম,,, উনি মাঝে মাঝে তুলে বলতেন ব্যস্ত আছি, এইটুকু শুনেই যেনো প্রান জুড়িয়ে যেতো, আগের কনভারশেশান গুলি প্রতিদিন রিভিশান দিতাম,, মুখস্ত হয়ে গিয়ছিলো,, এইদিকে আমার এক্সামো চলে এলো,, সব কিছুর মাঝে আমি পড়াটাও ধরে রেখেছিলাম কারন মাহিন পড়া নিয়ে খুব সাপোর্ট দিতো আমাকে, জোড় করে করে পড়তে বসাতো,, পরে কথা বলতো,,


এক্সাম হয়ে গেলো,, কয়েকদিন অফ আছে,,,


আমরা তিনজন মিলে একটা রেস্টুরেন্ট এ জব নিলাম,,,, সব চলছিলো কিন্তু আমার মনকে আমি শান্তি দিতে পারছিলাম না,, বার বার উনার কথা আর কেয়ার গুলি মনে পড়ে,,


,,,,,,,,


,,,,,"",,


সময় চলতে লাগলো,, আমার রেজাল্ট বেরিয়ে গেলো,,, ক্লাসে আমি ৪র্থ নাম্বার সিরিয়ালে আছি,,, সবাই খুব উইশ করলো, তিন্নি আর শুভ অনেক খুশি হলো যার কারননে মাহিনের রেস্টুরেন্টেই আমাকে ট্রিট দিলো,,, যদিও মাহিন নেই আমি জানি,, ঐখানে বসেই মাহিনকে মেসেজ করলালাম,,,


কোন রিপ্লাই নেই,, তাই নিশ্বাস নিয়ে খাবার টা মুখে পুড়ে নিলাম,,,


রুমে এসে শুয়ে পড়লাম,, হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো,


ফোন হাতড়ে নিয়ে নামটা দেখে হাত কাঁপা শুরু করে দিয়েছে,,,, আমাকে এমন দেখে তিন্নি বলে উঠলো,,


ও মেরি লায়লা ফোন,,ধর  নইত তোর কাঁপা কাপি ধাপা ধাপি তেই কল কেটে যাবে,,,,


আর কিছু না ভেবে রিচিভ করে নিলাম,,, রিসিভ করতেই সেই চিরো চেনা স্বর,, চিরো চেনা নিঃশ্বাস,, সব থামিয়ে ওপাশ থেকে বলে উঠলো


কনগ্রেটস  পাগলী,,,,


উফফফ ,,, পাগল করার জন্য এই পাগলী ডাকটাই যথেষ্ঠ ছিলো  


ভিডিও কলে আসো,, দেখবো,,,,


আমি সব ভাবনা ফেলে অভিমানি কন্ঠে বলে উঠলাম,,,, লাগবে না এখন দরদ,,, এতোদিন তো বেশ ছিলেন,


 

প্লিজ,, আসো একবার,, দেখবো,, অনেকদিন ধরে দেখি না


লাগবে না,,,


উনি আমার কথা না শুনেই ভিডিও কল দিলো,,, আমারো যে প্রানটা আকুপাকু করছে দেখার জন্য, তাই সব রাগ ফেলে ভিডিও কলে আসলাম,,

ইসসস ছেলেটা দিন দিন কিউটের ডিব্বা হচ্ছে,,


ঘন চুল,, হালকা গায়ের রং,,, ঘন ভ্রু জোড়া,,, চাপ দাড়ি পাগল করা সেই দুষ্টু হাসি,,,, আমি তাকিয়েই রইলাম,,,,


উনি বলে উঠলেন তা বলো, কি খাবে???


আপনাকে,,, আমিও না ভেবে কি জানি বলে দিলাম,,, উনি চোখ বড় বড় করে বলে উঠলেন


কিহহহহ?!!


আব মানে আপনাকে অনেক কিউট লাগছে,,,


উনি উত্তরে হাসলো শুধু,,,,


খাও না ঠিক করে তাই না??? তখনি তিন্নি এসে বলে উঠে,,,


একদমি না প্রত্যয়,,,, সুকে দেবদাসী হয়ে গিয়েছে,,,


উনি হেসে বললো,,, দেবদাসের ফিমেইল ভার্সন কবে চালু হলো?,???


আরে এই মাত্র,, তাও আমাদের এই পেঁচাকে দেখে


আমি চোখ রাঙাতেই,,, তিন্নি বলে উঠে


আরে চেতস কেন,, তোরে আজ গরুর না,, ছাগলের না, মুরগির ডিম ভাইজা খাওয়ামো,,,,


গরুর টা খামু,, এখন নিয়া আয়


এহহহহহ!!!!!


যা এইহানতে,,,,


হঠাৎ উনি বলে উঠে তা, খাচ্ছো না কেনো,????


আচ্ছা? আপনার আমার কথা মনে পড়ে নি??? মিস করেন নি???


দেখো,,, আমি মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে,,, আমার অনেক যুদ্ধ করে টিকা লাগে, তাই ইমোশান থাকলে চলে না,,, আমার কোন কিছু নিয়ে খারাপ লাগে না,,,,


কেনো যেনো উনার এই কথা খুব খারাপ লাগলো,,,


পাথর আপনি


হ্যা বলতে পারো তা,,,


আমার কিছু স্বন আছে যা আমাকেই পূরন করতে হবে,,,


তা কী কি স্বন???


আগে খেয়ে আসো,,


না,, আপনি চলে যাবেন,,,


না যাবো না,, এখন ফ্রি আছি,, খেয়ে আসো


১০ মিনিট পর


আছেন???


হু,, বলো,,,


আপনার স্বপ্ন গুলি???


আমি দেশে চলে যাবো কয়েক বছর পর,, ঐখানে সুন্দর একটা বাড়ি করবো,, আব্বু আম্মুকে নিয়ে থাকবো,,, আর এখন একটা গাড়ি কিনবো নিজের,,, এইতো আর টুকটাক কিছু ইচ্ছা,,,,


স্নেহা কথাগুলি ঐদিন খুব মন দিয়ে শুনছিলো,,, হঠাৎ বলে উঠলো,,,


আপনি আমার একজন ফ্রেন্ড এর থেকেও বেশি,,,


হ্যা,, অনেক ভালো ফ্রেন্ড আমি তোমার,, নরমাল না তো


না,,,, অন্যরকম,,, আপনি কি সত্ত্যি বুঝতে পারছেন না?? আমি কি বুঝাতে চাচ্ছি??? আপনাকে নিয়ে আমি যা ফিল করি তা কোন ফ্রেন্ড কারো জন্য করে না,,, আই থিংক


স্নেহা,, তোমাকে আমি আগেই কয়েকটা কথা বলেছিলাম,, তাই আমি মনে করি তুমি তা মেনে চলবে,,,, আমার পক্ষ্যে অন্যকোন দিক তোমাকে নিয়ে ভাবা সম্ভব না


বাট কেনো??? আমি অন্যমেয়েদের মতো আপনাকে ঠকাবো না,,, প্লিজ একটা সুযুগ দেন,, সবাই এক না


আমি জানি সবাই এক না কিন্তু এইগুলা নিয়ে আমার কোন ভাবনা নেই,, তাই আমি চাইবো তুমি তোমার মতো করে থাকো,,, আমার রাস্তায় এসো না তুমি


কিন্তু


আসি,, আমার কাজ আছে,, টেইক কেয়ার,,,


বলেই উনি অফলাইন হয়ে গেলেন,,, এতোটুক্য বড় হয়েছি,, কখনো কোন কিছু পাই নি তা হয় নি আজ অব্দি,,, কিন্তু জীবিনের সবচেয়ে বড় জিনিস আজ আমি পাচ্ছি না,,, কষ্ট হচ্ছে কিন্তু আমি আগে থেকেই জানতাম এমন কিছু হবে তাই রেডি রেখেছিলাম কিন্তু এইটাও ভেবেছিলাম আমি ভালোবাসি বললে উনি ফিরাবেন না কিন্তু আমি ভুল,,, উনার এতো আবেগ দিয়ে আমার সাথে কথা বলা,, খেয়াল রাখা,, আমাকে উনার প্রতি দূর্বল হতে বাধ্য করা এইগুলি যাস্ট কিছুই না,,, আমার ছোট মনটাকে নিয়ে খেললেন,,,, তবুও ভুল আমার,,,


এরপর থেকে আবার যোগাযোগ অফ হয়ে গেলো,,,, আমি অনেক নক দিয়েছি, মাঝে মাঝে একটা রিপ্লাই দিতো,, যা থাকতো, আমি বিজি আছি,,, আচ্ছা উনি কি ২৪ ঘন্টায় ব্যাস্ত থাকেন?? নাকি আমাকে এড়াচ্ছেন!!!


ভাবলাম উনি আমাকে চাচ্ছেন না তাহলে কেন পড়ে থাকবো,, তাই নিজের মতো পড়া আর কাজ করতে লাগলাম,,, উনাকে আর মেসেজ দেই না,,,


একদিন ক্লাস শেষে এক রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছি,,, খাবার অর্ডার নিতে আসলো একজন ছেলে,,, শুভ আর তিন্নিই অর্ডার করলো,, তিন্নি আমাকে নাড়া দিলো, আমি তাকাতেই ঈশারা করলো,, তাকিয়ে দেখি মাহিন,,, যে কিনা আমার দিকে খেয়ালি করে নি,, আমি কিছুক্ষন তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিলাম,, এমন তো না যে চিনে না,,, একদিন আমি ছবি দিয়েছিলাম আমার একটা,,,,


খাবার সার্ফ করছিলো,, আমি তাকিয়ে আছি,,, উনি সব দেওয়ার পর একবার আমার দিকে তাকিয়ে চলে গেলেন,,,,


আমি খাবার নাড়ছি,,, শুভ আর তিন্নি জোড় করে একটু খাওয়ালো,,,, কারন উনাকে দেখে এমনিতেই পেট ভরে গিয়েছে  ,,,


বাসায় এসে বসলাম,, শুভ এসে বসলো,,,,


হোন অনেক দিন দেখছি,,, ঐ বা** পুলার লাইগা যদি আর একক্কান চোখের পানি পড়ে তোর,, হাছা কইতাছি ঐ ছাতার পুলারে ধইরা আমি খুন করাম,,,


শুভভভভভভভভভ


চিক্কোর পারোস কে??? তোর প্রেমিক ও??? যে চিক্কোর পারস শইতান,,,,


আমি টলমল চোখে তাকিয়ে আছি,,,,


আমি শান্ত ভাবে বলে উঠলাম,,, এইটা আমার দোষ শুভ,,, আমাকে উনি আগেই সব ক্লিয়ার করে বলেছিলো,, এমনকি উনি বিয়েও করবে না বলেছে,,,, এখন সব জেনে প্রেমে যদি আমি পড়ি তাহলে কি এইটা উনার দোষ??? এ


তাইলে এতো পীরিত দেহাইছিলো কেন????


উনি কেয়ার নিয়েছে,, আমিও নিয়েছি,, কই উনি তো প্রেমে পড়ে নি,, আমি পড়েছি,, এইটা অবশ্যই আমার দোষ,,, দেখ জোড় করে সব করা যায়,, প্রেমো করা যায় কিন্তু মনের ভিতর ঢুকা যায় না জোড় করে,,, আমি জোড় করে উনাকে চাই না,,, আমার ভালোবাসাটা  একতরফাই থাকলো,, কি বলিস?!!!


শুভর চোখে পানি টলমল করছে,, তিন্নি এসে জড়িয়ে ধরলো আমাকে,,, সাথে শুভ এলো,,, দুইজন একসাথে বলে উঠলো আমরা আছি তোর পাশে,,,,,,


তাহলে আমাকে উনাএ স্বপ্ন পূরন করতে সাহায্য করবি,, বল????


দুইজন দুইজনের দিকে তাকাতাকি করে বলে উঠলো,, করবো,, তোর লাইগা এ জান কুরবান,,,


আমি আর তিন্নি কিটকিটিয়ে হেসে উঠলাম,,, তিন্নি বলে উঠলো,,


তোর বউগর কি হইবো,???


আরে বউ পড়ে,,, আগে মেরে জান,, জান কি দোস্ত


,,,,,,রাতে ফোনে মেসেজ আসলো,,,, ওপেন করতেই


খাচ্ছিলে না কেনো???      ভালবাসার গল্প কথা


ক্ষুদা ছিলো না,,,


সত্ত্যি?? নাকি আমি ছিলাম বলে


নাহহ আপনি ছিলেন বলে কে বললো,?? সারাদি  ক্লাস করে পরে খাওয়া ভালো লাগে না তাই,,,,


তুমি পাগলামি করছো


আপনার কেনো মনে হলো আমি পাগলামি করছি??? আমি কি অন্য সবার মতো আপনার কাছে গিয়ে ভিক্ষ্যে চাচ্ছি,??? অন্য সবার মতো সব ছেড়ে ছুড়ে শুধু আপনার পিছন ঘুরছি,???? নাহহ আমি এইখানে এসেছি আমার ড্রিম পূরন করার জন্য সো এইটা থেকে পিছু হটবো না,, হ্যা ভুল হতেই পারে,, আমিও ভুল মেবি করে ফেলেছি,, এমন কিছু চেয়ে যার যোগ্য আমি নই


স্নেহা তুমি আমার যোগ্য না এইটা আমি একবারো বলি নি, বরং আমি


এইসব কিছু শুনতে চাচ্ছি না,,, কেমন আছেন??


ভালো,,, তুমি???


আমিও ভালো,,,,


এরপর দুইজনি চুপ,,, মাহিন বলে উঠলো আসি আমি,,, একটু কাজ আছে


আমি একটু হাসলাম,, এই রতেও কাজ!!! ওকে আল্লাহ হাফেজ


,,,,,,,,,,


আমি কাজ করতে করতে মুটামুটি ভালোই টাকা জমিয়ে ফেলেছি,, আমি ছোট একটা গাড়ি কিনলাম,, নিজের চলাফেরার জন্য, যেনো ৩ জন যাইতে পারি কুথাও,,,


অনেক দিন মাহিনের সাথে যোগাযোগ হয় না, আমিও আর দেই না,, আমার ভালোবাসাটা না হয় এমনি রইলো,, সবার থেকে ভিন্ন


আজ হঠাৎ মাহিন মেসেজ দিলো,, অনেক ক্ষন কথা বললো,,, আমি আর কথা বাড়ায় নি, তবে একটা জিনিস জানতে পারলাম, কাল এক জায়গায় যাবে যেইখানে বিভিন্ন গাড়ি থাকে,, অনেকে একদিন ইউজ করে রেখে যায়, আবার অনেকে পুরাতন গাড়ি রেখে যায়, এদের সো রুম আছে,,,,


এই সুযুগ,,, 


মাহিন শো রুমে ঢুকলো,, গাড়ি ঘুড়ে ঘুড়ে দেখছে,,, ওর এক গাড়িতে চোখ আটকে গেলো,,, এবং ঐটা নিয়ে কথা বললো,,,, একটা পর্যায়ে মাহিনের মুখের হাসি প্রসারিত হয়ে গেলো,,, সে গাড়িটা কিনে ফেললো,, এবং নিয়ে বেরিয়ে গেলো,, সব ফর্মালিটি পূরন করে,,,,


থ্যাক্স স্যার,, থ্যাক্স ফর ইউর হ্যাল্প,,,


ও নো নো,, ইটস ওকে,, বাট ইউ আর এ নাইস গার্ল,,, গড ব্লেস ইউ ডিয়ার,,,


সবাই বেরিয়ে গেলো,,, এতোক্ষন শো রুমের ম্যানেজারের সাথে কথা বলছিলো ওরা,, কাহীনি এইবার বুঝিয়ে দিই,,,  


স্নেহা মাহিনের কাছ থেকে জায়গাটার এড্রেস নিয়ে   সেইখানে চলে যায় ,, এন্ড নতুন গাড়ি কিনে সেইখানেই রেখে দেয় আর ম্যানেজারকে সব বুঝিয়ে বলার পর ম্যানেজার স্নেহার এমন বন্ধু সুলভ আচরন দেখে রাজি হয়ে যায়,, আর স্নেহা বলেই দেই,, যে ওর কাছ থেকে এমন দাম রাখবেন যেইখানে শুধু গাড়ির লাইসেন্স আর বিভিন্ন ফর্মালিটিসে টাকা যাবে ঐ টকু আর ওকে বলবেন, এইটা আপনারা বিক্রি করবেন খুব আর্জেন্ট তাই কম দামে দিচ্ছেন,, কারন একবারেই টাকা না নিলে সন্দেহ হয়েই যাবে আর যেটা স্নেহা চায় না,,,,


,,,,,,,,,,,


,,,,,,,,,,


আজ বাঙালিদের নিয়ে অনুষ্ঠান হচ্ছে,,, যেইখানে সব বাঙালি উপস্থিত,,, সবাই সবার মতো মজা করছে,,,


স্নেহাও নিজের মতো ঘুরছিলো,,, হঠাৎ দেখতে পেলো মাহিন একজনের সাথে দাড়িয়ে কথা বলছে,,,, কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে স্নেহা স্টেজে চলে গেলো,,,, বসে মাইক হাতে নিলো,,, সব লাইট অফফ হয়ে গেলো,,, মিউজিক অন হলো,,,,, স্নেহার কন্ঠে ভেসে এলো


,,,,,,,,


একটাই আমার তুমি কেনো বুঝো না,,,,,  তুমি আমার ,, হ্রদয়ের প্রান প্রতিমা


একটাই আমি যে তোমার চেয়ে দেখো না,,, আমি তোমার।। রোদেলা দিনে স্বপ্ত ছায়া,,,,


এ মন মন্দিরে,,,,, তুমি আমার,, প্রর্থনা


এই বদ্ধ ঘরে,,,, তুমি দক্ষিনা হাওয়া


একটাই আমার তুমি কেনো বুঝো না,, তুমি আমার,, জীবিনের প্রান প্রতিমায়ায়ায়ায়া,,,, ( গানটা শুইনা নিয়েন হিহি,, আর লিখতে গেলে আরো বড় হয়ে যাবে তাই এইটকুই থাক গান)  


মাহিন এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে,,, মনে হচ্ছে গানটা তার জন্যই বানানো,,, আর স্নেহা এতো আবেগ দিয়ে গাইছে যেনো মনে হচ্ছে মাহিনকে বলছে সব কথা,,,,,


গান শেষ হতেই সবাই হাততালি দিলো,,, এমন বাঙালি গান লাইভ শুনে সবাই বেশ হৈ চৈ লাগিয়ে দিয়েছে,,,, মাহিন ভিড় ঠেলে যেতেও পারছে না,,,,


স্নেহা একবার তাকিয়ে বেরিয়ে গেলো,,,


,,,,,,,,


ঐদিনের পর মাহিন কল দিয়েছিলো,, স্নেহা ব্যাস্ত ছিলো,, তাই ধরতে পারে নি,, আর বেকো করেনি,,,,,


স্নেহার শরীরটা হঠাৎ করেই খারাপ করছে,,, ডাক্তার দেখিয়েছে,, কয়েকটা টেস্ট ও দিয়েছে,,, রিপোর্ট আরো ৩ দিন পর পাবে,,,,


স্নেহা হইত নিজের শরীরের রোগ আঁচ করতে পারছিলো,,,, তাই একদিন মাহিনের রেস্টুরেন্ট এ যায়,,, গিয়ে রেস্টুরেন্ট এর ম্যানেজারের সাথে বসে,,,,


ম্যানেজার,,, ম্যাম আপনি?????


আমাকে তুমি করে ডাকুন,,, আমি আপনার মেয়ে বয়সি আংকেল,,,


লোকটা হেসে বলে,, ওকে মা বলো,,, আংকেল আপনাকে একটা হ্যাল্প করা লাগবে,,,,,,


কিছুক্ষন কথা হলো দুইজিনের ভিতর,,,,


স্নেহা বেরিয়ে মাহিনকে কল দিলো,,,,


আপনার কাছে কখনো কিছু চাই নি,,, আজ আপনার থেকে ২ ঘন্টা সময় চাচ্ছি দিবেন???


কখন ????


আপনার সময় যখন হয়,,, এখন হলে এখনি,,,,


ওকে কোথাই আসবো???     ভালবাসার গল্প


ট্যাম্পস নদী


ঐদিনটাই ছিলো স্নেহার বেস্ট দিন ২ ঘন্টা নয়,, সারাদিন ছিলো দুইজন একসাথে,,, অনেক জায়গা ঘুড়েছে ,, টাওয়ার ব্রিজ থেকেও ঘুড়ে এসেছে,,,,


স্নেহার শরীর একটু খারাপ হচ্ছিলো,,, তখন


তোমার শরীর খারাপ লাগছে????


স্নেহা মুঁচকি হেসে বললো,,,, নাহহহ সব খারাপ লাগার অবশান হলো বলে,,,,


মাহিন কিছু বুঝলো না,,, স্নেহাকে ধরে গাড়িতে বসিয়ে পৌছে দিলো বাসায়,, অথচো এই বাসায় কতো এসেছিলো মাহিন, খাবার দিতে,,,


মাহিনের লাইফ সেট কিরে স্নেহা চলে এলো তার বাকি যেইটুকু সময় আছে, তার বাবা মার কাছে কাটাবে বলে,, শুভ তিন্নিও চলে আসতে চেয়েছিলো কিন্তু স্নেহা বলেছিলো,,,,


লাইফের সাথে কম্প্রমাইজ কখনো করবি না,,,, আমি তো হেরে গেলাম,,, তোরা জিদে দেখাবি,, ভাববি এতেই আমার শান্তি,,, ঐদিন শুভ  আর তিন্নি ঘর কাঁপিয়ে কেঁদেছিলো,,, কারন ৫ ঘন্টা হয়েছে তারা জেনেছে স্নেহার ক্যান্সার হয়েছে,,,, শুভ পাগলের মতো ধরে কাঁদছিলো আর বলিছিলো,, স্নেহো প্লিজ একবার বল ভুল রিপোর্ট,, আমি প্রমিজ করছি ,, আমি মেয়েদের পিছনে আর লাগবো না,, তোরে জ্বালাবো না,, এরপরো বল তুই আমাদের সাথেই থাকবি,,,, ঐদিন শুভর কথার কোন উত্তর ছিলো না স্নেহার কাছে,,,, পুরু ৭ দিন শুভ আর তিন্নি কেঁদে পাগল করে দিয়েছে কারন ৭ দিন পর স্নেহা বাংলাদেশে চলে এসেছে,,,, ফাইসবুক ডিএক্টিভ করে দিয়েছে,, যেনো মাহিন কিছু জানতে না পারে,,, তবুও "শেষ চিঠি" দিয়ে  এসেছিলো,,,, যেটা স্নেহা বলেছিলো যেনো কয়েকদিন পরে দেয়,,,,


স্নেহা আজ চার দেওয়ালের ভিতর,, সাদা বেড সিডের উপর শুয়ে আছে,,, এই জীবন আর ভালো লাগছে না,, যতোদিন বাঁচবে একটু নিশ্বাস নিয়ে বাঁচতে চায়,,, এই হসপিটালে ঔষধের গন্ধ আর সহ্য হচ্ছে না,,,,


স্নেহার জেদে বাসায় আনা হলো,,, আত্মীয় স্বজন এসে দেখে যাচ্ছে,, কেউ কেউ হাহাকার জনক কথা বলছে,, যা শুনে স্নেহার আম্মু কেঁদে কেঁদে অসুস্থ্য হয়ে গিয়েছে,,,

স্নেহা রাগ করে সবাইকে আসতে বারন করে দিয়েছে,,,,,


নেচে খেলে স্নেহা দিন কাটাচ্ছে,,, বাহিরে পাখির মতো উড়ছে,,, কোন বাধা নেই,,, স্নেহা সব মেডিসিন নেওয়া অফ করে দিয়েছে,,, কিমোটাই দিচ্ছে না,,, কয়েক দিনের অতীথি ও,, শুধু শুধু কেন এইগুলা নিবে,, এইভাবে যে কয়দিন বাচতে পারে,,,,,,,


,,,,,,,,,,,,,


,,,,,,,,,,,


স্নেহা বেডে পড়ে আছে ডাক্তার রা লাস্ট চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে,,, স্নেহা একটা আঙুল ঈশারা করলো,, শুভ তিন্নি পাশে আসলো,,,,,


স্নেহা খুব কষ্ট করে আওয়াজ করলো,,, মা মা হি,  ন,,,


শুভ কেঁদে দিলো,,, তিন্নিও,, আজ ১ বছর হয়ে গিয়েছে,,, মাহিনকে চিঠি দিয়ে আসার পর মাহিনের সাথে আর কোন যোগাযোগ করতে পারে নি ওরা,, এই কথা স্নেহাকে কি করে বলবে ওরা!!!!


,,,,,,,,,,,,


,,,,,,,,,,,,,,


,,,,,,,,,,,,,


শুভ তিন্নি দাড়িয়ে কথা বলছিলো,, পাশের রুমে স্নেহার আম্মুর মাথায় পানি ঢালা হচ্ছে   ,, তিন্নি হঠাৎ মাথা ঘুড়িয়ে তাকাতেই,,,,,


শুভভভভভ,,, সামনের দিক ঈশারা করে


,,,,,,,,,,,,


,,,,,,,,,,,


শুভ, তিন্নি, মাহিন দাড়িয়ে আছে,, মাহিনের চোখ বেয়ে পানি পড়ছে,,,, আজ সবাই কাঁদছে তাই আকাশো কাঁদতে লাগলো,, ঝুম বৃষ্টি পড়ছে,, বৃষ্টির পানিতে মাহিনের  চোখের পানি ধুয়ে যাচ্ছে কিন্তু মনের কষ্টটা মুচছে না,,,,,


তোমার জন্যই  মেয়েটা এতোদিন যুদ্ধ করে গেছিলো,,, যদি একটাবার তোমাকে দেখতে পায় সেইই আশায়,, ইউ কে থেকে এসে সব যোগাযোগ  মাধ্যম অফ করে দিয়েছিলো, যেনো তোমাকে ও কল না করে,,, তুমি যেনো ডিস্টার্ব  না হও   ,,,, শেষ চিঠি তে ও তোমাকে সব বলে এসেছিলো ,,,,, তোমার সকল ইচ্ছা পূরনের জন্য এতো টাকা রেখেও ওর নিজের টাকায় তোমাকে সাহাজ্য করবে বলে   নিজে জব করলো,, তোমার সখের গাড়ি কিনে দিলো যা তুমি সস্তা দান ভেবে কিনে নিয়েছো, কিন্তু ঐটা নতুন গাড়ি ছিলো,,, তোমার বাড়ি করার ইচ্ছা বলে তোমার হোটেলের ম্যানেজারের কাছে ওর সব জমানো আর রোজগারের টাকা   দিয়ে আসে,, যেনো তোমাকে বলে তোমার বেতন বেড়েছে,,, আস্তে আস্তে তোমার সকল প্রবলেন সলভ করতে করতে কখন যে নিজের জীবনের সাথে হেরে গেলো পাগলীটা বুঝলই না,,,,, শুভ কাঁদতে লাগলো,,,


তিন্নি,,, তোমার জন্য,, তোমার জন্য মেয়েটা প্রতিটা রাত অপেক্ষা করেছে কখন একটু কথা বলবে,, তোমার জন্য মেয়েটা অপেক্ষাই করেই গেলো,, অপেক্ষার অবসান আর হলো না,,, "শেষ চিঠি " দিয়েও ও তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলো,,,, দেখো মেয়েটা আজো অপেক্ষা নিয়ে গেলো,,,তোমাকে দেখতে পেলো না,,, আর একটু আগে আসতে প্রত্যয়,, মেয়েটা দেখে যেতো তোমাকে,,, চিঠিটা পড়েও তুমি ১টা বছর কাটিয়ে দিলে !!!! কেনো!! কেনো বলেই তিন্নি চলে গেলো,,, শুভও চলে গেলো,,,,,


মাহিন কান্না করতে করতে  বসে গেলো স্নেহার কবরেরর পাশে,,, কিছুক্ষন আগে কবর হয়েছে,,, নতুন মাটি,,,


আমার এই ভুলের ক্ষমা কি করে পাবো স্নেহা!!!! আমাকে অপরাধী করে চলে   গেলে,,, তোমার ঐ চিঠিটা       আমি পেয়েই পড়তে নিয়েছিলাম তখনি আব্বুর ফোন আসে ,, আম্মু অসুস্থ্য,, তখন মাথা ণষ্ট হয়ে গিয়েছিলো,, বাড়ি যাওয়ার জন্য সব রেডি   করেছি কয়েকদিনে,, আম্মুর মাইনর এট্যাক হলো যার কারনে   কোমায় চলে গিয়েছিলো,,  আম্মুর সুস্থ্যতা হইত তোমার দেওয়া টাকা থেকেই হয়েছে ,, আম্মু সুস্থ্য হতে হতে দেরী হয়ে গেলো,,সব কিছু সামলে উঠে আমি চিঠিটা যখন পড়লাম  ,, তখন অনেক দেরী হয়ে গিয়েছিলো,,, আমি যখন বুঝতে পারি  সবাইকে এক দাড়ি পাল্লায় মেঁপে  আমি যে আমার লাইফের সবচেয়ে দামী জিনিস হারিয়ে ফেলেছি,,,, জীবিনের সব চেয়ে বড় জিনিস আমি হারিয়ে ফেলেছি স্নেহা,, তোমাকে,,, আমি তোমাকে ভালোবাসি,, যেই কথাটা তুমি শুনতে চেয়েছিলে,,,,


মাহিন চিৎকার করে কান্না করছে,,, আজ এই কান্নার মূল্য নেই,, সময়ের কাজ সময় না করলে এমন হাহাকার করা লাগে,,,, আজ মাহিন কাঁদছে,, যেই কান্না এতোদিন স্নেহা কেঁদেছিলো,,  একটু ভালোবাসার মানুষের সাথে কথা বলার জন্য,,  একটু দেখার জন্য,,,, তখন মাহিন বুঝে নি,, আজ আজ বুঝলো কতটা ভালোবাসা স্নেহা ওকে দিয়েছিলো,,


মাহিন কাঁদছে,,, স্নেহা সবাইকে কাঁদিয়ে অন্ধকার ঘরে  আছে,,,,


আজ যদি" শেষ চিঠিটা "মাহিন আগে পড়তো,, তাহলে হইত অনেক কিছু অন্যরকম হতো,,,,,


ভালোবাসা অবহেলা করতে নেই,,খাটি ভালোবাসা অনেক কষ্টের পর মানুষ পায়,, যারা পায় তারা হারিয়ে বুঝে 


     সমাপ্ত


( ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন,, সবাই গঠনমূল মন্তব্য কইরেন,,, আর অনেক দিন গল্প দিচ্ছি না দেখে সবাই ভুলে গিয়েছে,, তাই রেসপন্স নেই,,, নতুন গল্প স্টার্ট করবো যারা রেসপন্স করবে না, আনফ্রেন্ড হয়ে যাবে, হু,, কইয়া দিলাম,,,)


শেষ চিঠি, পর্ব:১ bangla love story, ভালবাসার গল্প, ভালবাসার গল্প কথা, রোমান্টিক গল্প, bd love story


Post a Comment

Previous Post Next Post