শেষ চিঠি, পর্ব: ১

                     লেখক: তাবাসসুম


শেষ চিঠি, ভালবাসার গল্প কথা, bangla love story
Add caption

---এই গল্পটি আমার, আমার নিজের গল্প,,, লিখবো লিখবো করে, আমার আর সময়টাই হয়ে উঠলো না,,, কিন্তু আজ তো আমি ছাড়া হাত, পা,, অনেক সময় আমার লিখার,,, জীবনের সময় কতটুকু আছে তা আমার জানা নেই,,, কিন্তু আমার জীবনের এই, না পাওয়া,, কিছু না বলা কথা গুলি বলে যাওয়ার আমার সময় আছে,,,,,,,,,


-----আমি স্নেহা,,, নামটা সুন্দর না!?? আমার নামটা আমার খুব পছন্দের, কেনো জানেন? আমার মাঝে একটা মমত্ত্ব, / মায়া / টান একটা বোধ আছে অন্যের প্রতি,,,,,জীবনের গল্প


,,,,,কারো কষ্ট আমি দেখতে পারি না,,,


,,,,,,এমন অনেক হয়েছে, আব্বু কলেজে যাওয়ার জন্য টাকা দিয়েছে,, আমি কোন অনাহারীকে খাবার কিনে দিয়েছি ঐটাকা দিয়ে,,, এটা মনুষত্ত্বের মাঝে পড়ে,,,,

আমি বাড়তি কোন টাকা রাখতাম না সাথে,,, আমার মনে হতো 


,,,,,,## মানুষের চলার জন্য অসীম কিছুর প্রয়োজন,,, সীমিত সব কিছু দিয়ে চলা যায়, তাতে সুখ বেশি,, তৃপ্তি বেশি,,,


আমাকে আব্বু না চাইতেই অনেক দিতো,, আমার মনে হতো ভালো থাকার জন্য # এতো টার প্রয়োজন আমার নেই,,, তাই আমি টাকা গুলি পথ শিশু আর বয়স্ক মানুষদের দিয়ে দিতাম,,,, * কারন বয়স হয়ে গেলে বাবা, মা সন্তানের কাছে হইত বোঝা হয়ে যায়,, এটা নিতান্তই আমার ধারনা, নইত বয়স হতেই কেনো বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয় সন্তানরা!!! যতদিন টাকা আছে,, বাবা মা তাদের সাথে,, আর বাবা মার টাকা ফুরিয়ে গেলেই, সব নাই,

*** ছেলে মেয়েরা কেনো ভাবে না??? এই বাবাই তার সকল আবদার পূরনের জন্য দিন রাত খেটে তার মুখে হাসি ফুটায়,,, বাবা নিজে ছিড়া চটি পড়ে চালিয়ে দেয় কিন্তু তাঁর ছেলে মেয়েকে ব্রেন্ডেড জুতু পড়াবেন তিনি,,,


আর মা!!!!! উনার সম্পর্ক তো নাড়ি ছেড়া ধন,,, পারলে কলিজা ছিড়ে দিয়ে দেয় সন্তানের জন্য,,,


##সেই সন্তানের, সেই বাবা মাকেই যদি বয়স হতেই নাতি নাতনীকে ছেড়ে বন্ধি জেলে যাওয়া লাগে,,, তাহলে ওমন ছেলে মেয়ে থাকার থেকে না থাকা অনেক্ক ভালো


( এইগুলি মন দিয়ে বুঝে নিয়েন কী বলতে আর কী বুঝাতে চেয়েছি আমি)  


আসা যাক আমার গল্পে,,,,


জানতাম না আমার জীবনের গল্পটা আমি কখনো এইভাবে লিখতে বসবো


আমি বাবা মার খুব আদুরে মেয়ে,, যখন যা চেয়েছি তাই পেয়েছি,,, দুই বোন আমরা,,,, বড় আপু আর আমি,,, দুইজনি বাবার আদরের দুলালী


পড়াশুনায় খুব ভালো আমি,,, ছোট বেলায় স্বপ্ন ছিলো ডাক্তার হবো,, কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে রুচি চেইঞ্জ,,,,


দেশের বাহিরে পড়াশুনা করার খুব ইচ্ছে,,, তাই ঐটাই ফুকাস করলাম,,, কীভাবে ভালো ভার্সিটি চান্স পাওয়া যায় দেশের বাহিরে,,,,


আস্তে আস্তে তথ্য নিয়ে নিয়ে এগিয়ে গেলাম স্বপ্নের রাস্তায়,,,


দেশের বাহিরে, লন্ডন এক ভার্সিটি তে আমার চান্সো হলো,,, ওরা স্কলারসিপে আমাকে নিলো,,, রেজাল্ট খারাপ হলে আমার স্কলারসিপ থাকবে না, তারপর নিজের খরচ চালানো লাগবে,, আমার আব্বুর সে ক্ষমতা আছে তাই আব্বু রাজি হলো পাঠাতে,,


ইউ কে যাবো ভাবতেই খুব ভালো লাগছিলো,,, দেশের বাহিরের সব এতো ফ্রেস ফ্রেস নেচার দেখতে ভালো লাগতো,,, টিভিতে যখন দেখতাম তখন মনে হতো,, আমিও যদি যেতে পারতাম!!!!


( আমাদের দেশ সুন্দর আরো বেশি,,,)bangla love story


বরাবর বাহিরে পড়ার ইচ্ছা আর সুযুগটা হওয়াতে আমার খুশি দেখে কে,,, আমাদের তিন ফ্রেন্ডের হয়েছে,, দুইজন মেয়ে, একজন ছেলে,,,


আমার মার সেকি কান্না,, আমি কীভাবে থাকবো, কী খাবো ঐখানে, কীভাবে খাবো হেন ত্যান,,,, মাদের চিন্তার হইত শেষ নেই,,,


মাকে শান্ত করলাম বুঝিয়ে শুনিয়ে,, আজকাল মেয়েরা একা চলতে জানে,, পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারে নিজেদের


ব্যাস আমার স্বপ্নের দিন চলে এলো,,,


আজ ২৭.০৪.২০২০,, আমি নিজের গল্পটা লিখতে বসেছি ঠিক এই দিনেই গতো বছর আমি ইউ কে পাড়ি দেই 


বাহিরের দেশে পা রেখে, নিজের দেশের মাটির ঘ্রানটা খুব মিস করছিলাম,,,, আমরা বাঙালি প্রেমিরা দেশের মাটিকে খুব ভালোবাসি তাই তা মিস করবই,, তা স্বাভাবিক,, সকল খারাপ লাগাকে পিছনে ফেলে স্বপ্নের পথা হাটা লাগালাম,,,,


আমরা একি বাসায় উঠলাম,, আমি আর তিন্নি এক রুম নিয়েছি,, আর আমার ছেলে ফ্রেন্ড   শুভ, ও নিচে উঠেছে, একই বিল্ডিং,, 


খুব টায়ার্ড ছিলাম সবাই,, তাই ফ্রেস হয়েই সবাই ঘুম, কারন ফ্লাইটে আমরা খাবার খাওয়া সেরে নিয়েছিলাম, তাই ঘুমটাকে আমরা প্রধান্য দিয়েছি


,,,,,,,


নতুন সকাল,, নতুন পরিবেশ, নতুন সূর্য,,, সীর্যটাকে আজ পর পর লাগছে,,, মিষ্টি রোদের ঘ্রানটা নেই, থাকবে কী করে? এইখানে এখন শীত, সূর্য উঠলেও তার তেজটা নেই,,,, ঘুম থেকে উঠেই শুভকে কল দিলাম, কারন কাল থেকে ক্লাস শুরু আমাদের, তাই এইখানের সব দরকারী জিনিস কিনা লাগবে আজি,,, সময়টা খুব ভালো ছিলো তখন,, স্বপ্ন পূরনের মজাই আলাদা,,, 


তিনজন মিলে বেরিয়ে গেলাম সুপার সপ গুলিতে,, নিজেদের জন্য জামা কাপড়, তারপর, খাওয়ার জন্য বিভিন্ন ড্রাই ফুড,, আর রান্নার জন্য বিভিন্ন জিনিস,,,  তিনজন মিলে ঘুড়ে ফিরে বাসায় ফিরে এলাম,,, শুভ শুধু রাতে তার রুমে গিয়ে ঘুমায়, রান্না, আড্ডা সব আমাদের রুমে হয়, একটা রুমে আমরা থাকি,, তার মাঝে, কিচেন, ওয়াস রুম আর পিচ্চি ডাইনিং রুম,,, আমাদের ব্যাচেলর লাইফ বিন্দাস চলবে,,,


আমি আর তিন্নি রান্না করছিলাম,, শুভ সব কিছু বের করে গুছাচ্ছিলো,,, ছেলেটা বাবা মাকে ছেড়ে এসে একটু শান্ত হয়েছে, নইত শইতানের বড় দাদা ছিলো,, বাহিরে আসার এই একটা হইত ভালো দিক থাকে, এখন যে যেভাবে নেয় নিজেকে,,, পরিবার , আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, নিজের সব কাছের মানুষদের ছেড়ে  যখন একা একটা জায়গায় থাকে, তখন এক পলকে নিজের বাস্তব জীবনটা বুঝতে শিখে,,, সকল ছেলেমানুষি তার কাছ থেকে তখন পালায়, কারন তখন ভরসা দিয়ে কাধে হাত রাখার মতো কেউ থাকে না,,, রাগ করে না খেলেও কেউ খাবার নিয়ে বসে থাকে না,,, নিজের খারাপ লাগা গুলু কারো সাথে সেয়ার করতে পারে না ,, নিজের সব ক্লান্তি দূর করতে হয় ফোনের ভিডিও কলে কাছের মানুষদের মুখ দেখে,,, তাই হইত এমন হয়,,,  


,আজ আমাদের ভার্সিটিতে প্রথম দিন,,, ক্লাস করে বেশ ভালো লাগলো,,, এক নতুন পরিবেশ,, সবাই সবার জায়গায় বসা, আলাদা আলাদা ডেস্ক, আলাদা সব, টিচার এসে ক্লাস করিয়ে চলে গেলো, নতুন সব কিছু তাই সব কিছু ভালো লাগছিলো তখন,,, কারন এমনটাই তো স্বপ্ন দেখেছিলাম,


ক্লাস শেষ হয়ে গেলো অনেক আগে, আমার একজনের সাথে খুব ভালো ফ্রেন্ডসীপ হয়ে গেলো,, ফ্লোরেন্স,,, ও একাই থাকে এইখানে,, ওর বাবা ওর মাকে ছেড়ে দিয়েছিলো,, তার মা আবার অন্য একজনকে বিয়ে করে যা ফ্লোরেন্সের পছন্দ হয় নি,,, তাই ও ছোট থেকে একাই বড় হচ্ছে,,, ওর মা নিতে চেয়েছিলো কিন্তু ও যায় নি, কারন ওর ধারনা ওর মা ওকে একা নিয়েও থাকতে পারতো তার জন্য,,, কিন্তু না উনি আরেকটা বিয়ে করে নিলেন, এটা তো উনার ভালোর জন্য, ফ্লোরেন্সের ভালোর জন্য নয় তাই ও একাই থাকে,,, আর বাহিরে এইগুলি কোন ব্যাপারি না ,,,, ও দুইটা  রেস্টুরেন্টে জব করে,  দুপুরে একটাতে আর রাতে একটাতে কারন আমাদের ক্লাস হচ্ছে সকাল  থেকে দুপুর অব্দি   তাই অনায়াসে এই কাজ গুলি করা যায় কারন বাকী সময়  তো বসেই থাকা হয়,,,,


আমরা তিনজন আজ ঘুড়তে বের হয়েছি ক্লাস শেষে,,, আমারো মনে হলো আমরাও তো কোন জব করতেই পারি,, এতো এতো সময় বসে কেন নষ্ট করবো?!!!!


আমরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুড়লাম তবে সাথে ফ্লোরেন্স ছিলো,, প্রথমে আমরা তিনজনি ছিলাম,, খাওয়ার জন্য ফুড কোর্ডে ঢুকে দেখি ফ্লোরেন্স,,, ওর এইখানের টাইম ওভার তাই পরের টায় না গিয়ে আমাদের সাথে ঘুড়তে বেরিয়ে পড়লো,,, ও থাকায় সুবিধে হয়েছে,, লন্ডনের মেইন ভিউ গুলি দেখে ফেলেছি আর অনেক রাস্তা এখন চিনা হয়েছে,,,,


আজ সকাল সকাল বেরিয়ে গেলাম,, নিউ থিসিস নিয়ে কিছু কাজ আছে লেবে তাই আমরা বেরিয়ে গেলাম,,, ল্যাপটপ নিয়ে ল্যাবে গিয়ে বসে সব ঠিক ঠাক করছি তার মাঝেই ফ্লোরেন্স এসে জয়েন করলো,,, সব কাজ শেষ করে আমরা ক্লাসে গিয়ে বসলাম,,, বাবাকে বলেছিলাম জবের কথা বাট বাবা না করে দিয়েছে,, আমি জানি বাবা না করবে,, তাই আর কি করার পড়াশুনায় মন দিলাম,,, ক্লাস শেষ করতে করতে দুপুর হয়ে গেলো ,, এইদিকে পেটে ইঁদুর দৌড়াচ্ছে,,, ফ্লোরেন্স বুঝতে পেরে বলে উঠলো,,,


আর ইউ হাংরি হানি!????


ইয়াহ,,,


ওকে দেন লেট'স গো,, টুডে আওয়ার ক্লাস ইজ অভার,,,


আমরা চারজন বেরিয়ে গেলাম আজ আমরা যাচ্ছি লন্ডনের সাউথ ক্যাসিন্টানে,,, এইখানের খাবার নাকি দারুন ইয়াম্মি,, আর ওদের নাকি আলাদা ডেজার্ট  সেকশানো আছে,, ডেজার্ট আমার অনেক পছন্দের তাই এইটাতে যাওয়া,,,


আমরা ক্যাব বুক করে চলে এলাম গ্লসস্টার রোডে,,, নেমেই ঢুকে গেলাম Fait maison এ,, বেশ সুন্দর করে বাহিরটা সাজানো,, দেখেই বুঝা যাচ্ছে খুব ভীড়,,, লাইনে দাড়ানো লাগলো,, পুরু ৪০ মিনিট দাড়িয়ে থাকার পর টেবিল পেলাম আমরা,,, দাড়িয়ে থাকা কালীন একটা কথাই মনে হয়েছে,,, ভাই এই ক্ষুদা পেটে নিয়া এতোক্ষন লাইনে দাড়া করাইয়া রাখলি,, খাবার কি ডাবল দিবি, মোগর বাংলাদেশে এতো খারাইয়া থাকা লাগে না,, ফট কইরা যাও,, ফুস কইরা বাহির হও,, মানে খাবার খাইয়া আর কি,, যাইহোক  টেবিলে বসলাম,, ওরা মেনু দিয়ে গেলো,, ওদের দু রকমের মেনু,, একটা ইংলিশ আরেকটা আরাবিক,, আমরা ওর্ডার দিয়ে দিলাম,,,১০ মিনিটেই খাবার চলে এলো,,,


বিরয়ানিটা পেস্ট্রিদিয়ে কাভার করা উইথ আন্ডা মানে ডিম দিয়ে,,, বিরিয়ানির কভারটা বেশ সুন্দর করে কেটে দিয়ে চলে গেলো লোকটি,,, স্মেল এত্ত সুন্দর যে,, স্মেলেই পেট ভরে যাচ্ছিলো,,,


সবাই মিলে খাওয়া স্টার্ট করলাম,, বিরিয়ানীটা যাস্ট ইয়াম্মী,, এত্ত মজার বিরিয়ানী আমি কোথাও খাই নি,,, আর বিরিয়ানীর সাথে ছিলো ফালাফাল, হুমাস,, তাহিনা সস আর ইয়োগার্ড,,, আর আমি একটা ডেজার্ট নিয়েছিলাম, বাকিরা আইসক্রিম,,, ফালাফাল টা তাহিনা সস দিয়ে খেতে হয়,, ওপরের টুকু মুচমুচে, সস দিয়ে এটার টেস্ট আরো বেরে গিয়েছে,,, খাওয়া দাওয়া শেষ করে একটু ঘুরলাম,,, শুভ ওয়াস রুমে গেলো,, আমরা ডেজার্ট সেকশান টা দেখছি,,, হঠাৎ শুভ চিল্লিয়ে উঠলো,,,


আমরা ছুটে বাহিরে দাড়িয়ে ডাকতে লাগলাম,,, শুভ বের হয়ে আমাকে আর তিন্নিকে টেনে নিয়ে গেলো,,, বিষ্ময়ে আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছি,,,


শুভ বলে উঠলো,,,, দোস্ত আমগর বাসায় তো এতো সুন্দর না, ওগর হাগু খানা যেমন সুন্দর,,,,  


সত্ত্যি এইখানে ওয়াস রুমটাও তুলতাম না  তবে এইটা বলার মতো ,,,,,, একটা রুম যেমন করে সাজানো থাকে তার থেকেও সুন্দর করে ওদের ওয়াস রুমটা সাজানো,,, কোন বেড স্মেল নেই,, আর চারপাশে খুব সুন্দর সুন্দর সো পিস দিয়ে সাজানো,,,


,,,,,,,,,,,,,


,,,""",,,,,,


রাতে বসে পড়ছিলাম,, তখন হঠাৎ শুভ এসে বললো,,, দোস্ত খুব পিজ্জা খাইবার ইচ্ছা হইতাছে,,,,


তিন্নি অবাক হয়ে বলে উঠলো,,,, হায়ায়া বান্দরের কলা খাইতে ইচ্ছা হয় জানতাম,, পিজ্জা কবেততে খাওয়া শিখলো,,,


শুভ দাঁত কেলিয়ে বলে উঠলো,, শাকচুন্নিরাও জানতাম শেওড়া গাছে থাকে জানতাম,, কবেত্তে টেবিলে বওয়া শুরু করলো!!!! জানতাম না তো,,, বলেই ঘর কাঁপিয়ে হেসে উঠলো,, এইদিকে তিন্নি তেড়ে এসে,,, তোরে তো আমি,, বলেই শুভর চুল টানা স্টার্ট করলো,,,,


এইযে দেখছস,,, গাছের ডাইলে উঠবার পাইতাছে না দেইখা আমার মাথার চুলে ঝুলবার চাইতাছে,,,,


( এই গল্পটা অনেক আগে থেকি লিখিছি, ভেবেছিলাম সর্ট স্টরি হবে কিন্তু বাধ্য হয়ে ২পর্ব করা লাগলো,, সামনে আপনাদের জন্য নতুন গল্প আসছে আমার,,)  


তোর বউ শাকচুন্নি, শইতান, বান্দর,,,


আমি দুইটার ঝগড়া দেখছিলাম,,, বাচ্চাদের মতো চুল টানাটানি করছে,,, গিয়ে ছাড়িয়ে দুইটাকে দুইপাশে রেখে বলে উঠলাম,,,


বান্দর আর শাকচুন্নির লগে মুই একলাই ভালা মানুষ আছি,, কবে যেনো আমিও তোদের মতো হয়ে যাই,,,,,


দুইজনি লাল চক্ষু ধারন করে তাকালো,,,,


আমি ভাব নিয়ে ফোন গুতাচ্ছি,,,,


দুইজনি চিল্লিয়ে বলে উঠলো,,, কী বললি তুই!!!!!


দুইজনের আওয়াজ শুনে বেচারা আমার ফোনটা ভয় পেয়ে আত্মহত্যা করলো,, মানে নিচে পড়ে গেলো,,,,


আমি ভয়ে ভয়ে দাঁত কেলিয়ে বলে উঠলাম,,, পি পি জ্জা,, খাবি না?? অর্ডার করি,, বলেই কেটে পড়লাম


,,,,,,,,,


,,,,,,,,,


২০ মিনিটের ভিতর পিজ্জা চলে এলো,,, আমি দরজা খুলতেই,, ডেলিভারি বয়টা হাসজ্জল মুখ করে বলে উঠে,,, ম্যাম ইউর অর্ডার,,,


শুভ বেরিয়ে এসেই হাত থেকে বক্সটা কেড়ে নিয়ে বলে উঠে,,,


ভালা না হইলে কিন্তু পুলিশ কেইস করুম,,


ছেলেটা হেসে বলে উঠে,,, স্যার খেয়েই দেখেন একবার,,, এরপর আরো খেতে চাইবেন আমি গ্যারান্টি,,,


আমি আর শুভ বিষ্ময় নিয়ে তাকিয়ে উঠলাম,, ছেলেটি পিউর বাঙালি ভাষায় কথা বলছে,,,,


দোস্ত আমি তো ভাবছিলাম ব্যাটা এইহানের, এতো দেহি আমগর মাল


আমি দাঁত কড়মড় করে বলে উঠলাম,, চুপ করবি তুই,,,,


ছেলেটি হেসে বলে উঠে,,, আমাদের রেস্টুরেন্টে আইসেন,, ইনশাল্লাহ খাবার ভালো লাগবে আর হ্যা আমি বাংলাদেশি স্যার,, রংপুর  আমার বাড়ি ,,,,


ছেলেটাকে টাকা দিয়ে ঘরর বসে খেতে লাগলাম,,, যে যার মতো খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম,,,,  কিন্তু এইদিনটাই যে আমার জীবনের সবথেকে বড় টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাড়াবে কখনো ভাবিই নি,,,,,,,


,,,,,,,,,,,


হসপিটালের বেডে বসে স্নেহা এতোক্ষন এইসব তার ডায়রিতে লিখছিলো,,হাসিমাখা মুখটা আজ শুকিয়ে ধূসর রং ধারন করেছে,,, চোখ দেখলেই যার মাঝে ঢুবে যাওয়া যেতো ঐ চোখ আজ ভিতরে ঢুকে গিয়েছে,,, যার কোমড় অব্দি চুল দোল খেতো আজ সেই চুও কিমোর বিষে বিষাক্ত হয়ে রাগ করে সব ঝরে গিয়েছে,,,, 


ডাক্তার রুমে ঢুকলো,,, সাথে স্নেহার মা বা,,,,


আজ স্নেহার ৩ নাম্বার কিমো দেওয়ার তারিখ,,,, এই অসহ্য যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে এখনি চাচ্ছে না,,, শুধু একটি আশায়,,, তার "শেষ চিঠি "পড়ে যদি সে আসে,,,,, যাস্ট একবার দেখে যেতে চায় স্নেহা,,, একটা বার ঐহাতে হাত রাখতে চায়


*শেষ চিঠি *


লেখা: তাবাসসুম


পর্ব:১ (অনুগল্প, ২ পর্বে শেষ করবো)  

 


                  চলবে,,


Post a Comment

Previous Post Next Post