মা মন খারাপ করো না বুঝতে পারছি ওই হারামি এটা আসেনি তো ওই জন্য তুমি একটু মন খারাপ করেছ সমস্যা নেই ওর শরীরটা একটু খারাপ তো ওই জন্য আসতে পারেনি রাগ করোনা কিছু মনে করো না. bd love story


গল্পের নাম ডিভোর্সি বউ 
লেখক সোহেল মাহমুদ
পর্ব ৩

Bangla Romantic Sad Love Story | গল্প ডিভোর্সি বউ । পর্ব ৩

গল্পের নাম ডিভোর্সি বউ  ডিভোর্সি বউ  পর্ব 3 । ডিভোর্সি।  ডিভোর্স  Divorce  Bd love story  Bangla love story  valobasar golp, ভালবাসার গল্প , রোমান্টিক ভালবাসার গল্প  Bangla Romantic Sad Love Story


আজ নীলিমার বাসায় বরপক্ষ কাবিনের দিন তারিখ ঠিক করতে আসতেছে। সবাই অনেক ভালো মন্দ রান্না বান্না করছে। বিভিন্ন রকম পিঠা বিভিন্ন রকম তরকারি মোরগ-পোলাও থেকে শুরু করে সবকিছু আয়জনের কোন কমতি রাখছেন  না। সেদিন কাবিন করার কথা বলতে এসে মানুষ বেশি আসবে না। যা আসে তাদেরকে তো ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করাতে হবে। না হলে তার বদনাম হবে। নীলিমা সেরকমই আছে আছে তার রুমে। বিষণ্ণ মনে।

রান্না করছেন সবাই রান্নাবান্না ঘর সাজানো নিয়ে বিজি থাকলেও এর ধারে কাছেও নেই নিলিমা। ডিভোর্সি বউ


নীলিমা বসে আছে তার রুমে সেই বিষন্ন চেহারা মন খারাপের অবস্থা নিয়ে। সবাই অবশ্যই নীলিমাকে বলছে কিরে এরকম করে আছিস কেন। আজ তো কাবিনের কথা ঠিক করতে আসতেছে। হাসিখুশি থাকার কথা।


 খাবি দাবি রান্না করবি। সবাইকে খেতে দিবি। তদারকি করবি। কেমন রান্না করছে সেগুলো না করে এখানে বসে আছিস কেন যা যা রান্না করে যা।

নীলিমা কারো কথাই কানে ঢুকছে সে বসে আছে তার আপন মনে।


এক ভাবীতো বলেই দিয়েছে বোঝোনা কেন? চুপ করে বসে আছে আজকে কাবিনের কথা পাকাপোক্ত করতে আসতেছে চিন্তায় আছে।  তারা ঠিকমত পৌঁছাতে পারবে কিনা ঠিকমতো খেতে পারবে কিনা। তার কবে বাসর হবে ফুলশয্যার রাত কাটাবে বোঝনা। সে স্বপ্নের রাতে স্বপ্নের গড়াগড়ি সেজন্য এইভাবে চুপ করে আছে।


সবাই হো হো করে হেসে দিল। বলল ঠিক ঠিক। নীলিমা! বুঝতে পারি না এখন বুঝলাম চুপ করে আছে কেন?

এসব শোনে নীলিমা হেসে দিল। পাগল হে খুব বেয়াদব!


কি দুষ্টু রে তোরা আমার মনে সুখ নেই। তোদের মনে কি! কি বলিস তোরা! 


লজ্জা নাই তোমাদের!


 ইস রে কেমন লজ্জাবতী। পারেনা যে আজকে কাবিন ঠিক করে বিয়ে করে নেয়।

সবাই আবার হেসে উঠল হাহাহাহাহা।

নীলিমা হেসে দিল। ধ্যাত তোরা যে কি শুরু করলি। 


এর মধ্যে ওরা চলে এসেছে। ছেলের মা, ছেলের ভাই আর দুজন মুরুব্বি। হাতে মিষ্টি পান সুপারি।  bangla love story


নীলিমার বাবা উঠান থেকে তাদের অভ্যর্থনা জানালো। 

তারা রুমে ঢুকতেই নীলিমার মা এক ভাবিকে তাড়া দিচ্ছে নীলিমাকে তাড়াতাড়ি সাজিয়ে আনার জন্য। ছেলের মা যদি দেখে নিলীমার এই অবস্থা তাহলে হয়তো তারা ভাববে নীলিমা বিয়েতে রাজি না। তাই ভাবিকে বলল তারাতারি ওকে সাজিয়ে গুছিয়ে রেডি করতে। ছেলের মা যদি যেতে বলে তো যেতে হবে। না গেলে সমস্যা হবে। যা না তাড়াতাড়ি সাজিয়ে দে।


ভাবী বলল চল সাজিয়ে দেব।

না আমাকে সাজাতে হবে না। আমি যেভাবে আছি এভাবে চলবে। আমি এত সাজতে পারবো না। ভাল লাগছে না। বিরক্ত করো না। তো যে ভালো আছি এভাবেই থাকি।

হ্যাঁ তুমি এভাবে থাকো আর ওরা বলুক যে এই মেয়েদের ভাবীরা তো কোনো কাজের না। মেয়েটাকে একটু সাজাতে পারছি না। গোছাতে পারছি না।  চলএকটু সনু পাউডার দিয়ে দেয়।


 তখন তোমার দোষ গুলো আমাদের আসবে। তোমার জন্য তো আমরা নিজেকে দোষী করতে পারি না তাই না। চলেন চলেন ম্যাডাম আপনাকে একেবারে খুব সুন্দর করে সাজিয়ে দিই।


এমন ভাবে সাজাবো দেখবা ছেলের মা আজকেই বিয়ের জন্য আবার তাড়া যেন না দেয়। ডিভোর্সি বউ


হ কইছে আপনারা কোথায় থেকে যে,, তোমাদের মাথায় এসব বুদ্ধি আসে। এসব কথা আসে আমার মাথায় ধরে না।

তোমরা এসব কথাগুলো কোথায় পাও। আমার মাথায় ধরে না উফ।

হয়েছে চলেন।


ছেলের পক্ষ মিষ্টি খেয়ে পান সুপারি মিষ্টি নাস্তা সব দেওয়া হচ্ছে। তাদের সাথে ছেলের বাবা মা গল্প করছে। আর এদিকে লিমাকে নীলিমার ভাবিরা সাজাচ্ছে।



নীলিমাকে সাজানোর শেষে একজন এসে বলল ছেলে তো আসে নাই। কথা শুনে নীলিমার চাচাতো বোন বলে উঠল আরে সো স্যাড! তোমার আজকে সাজানোটা কিছুটা হলেও বিতা গেল। সে দেখলে পাগল হয়ে যেত। না এসে ভালো করল। কেননা যদি আসতো তাহলে তো পাগল হয়ে যেত। পাগল হলে বিয়ে করতো কে! হাহাহা!


নীলিমাকে সাজিয়ে বসিয়ে রাখল। আর ওদিকে ছেলের মা তাড়া দিচ্ছে মেয়েকে তাড়াতাড়ি আনার জন্য। bd love story


নীলিমাকে নিয়ে ছেলের মার পাশে বসিয়ে দেওয়া হল। দেখতো মেয়েটাকে সাজানো হয়েছে বাট মেয়েটা কেমন জানি একটু মনমরা লাগছে।


তখন ছেলে মা বলল মা মন খারাপ করো না। বুঝতে পারছি ওই হারামি আসেনি তো ওই জন্য তুমি একটু মন খারাপ করেছ। সমস্যা নেই ওর শরীরটা একটু খারাপ তো ওই জন্য আসতে পারেনি। রাগ করোনা কিছু মনে করো না। সমস্যা নেই। তোমার সাথে কথা বলিয়ে দিব বাসায় গিয়ে। 


তখনই নীলিমার আম্মু বলল কেন কি হয়েছে? বেশি সমস্যা না তো


না একটু হালকা সমস্যা। কোন ব্যাপার না। খারাপ করছে তো একটু এজন্য সমস্যা নেই।


হুম। ভাল ডাক্তার দেখান এখনতো দিন কাল আবার ভালো না।


অবশ্যই।


তো চলুন মেন কথায় আসা যাক।


আপনাদের কোন আপত্তি না থাকলে আমরা সামনের মাসের এত তারিখে কাবিন করে নিতে চাই।


জ্বি জ্বি অবশ্যই।

আপত্তি থাকবে কেন! এ তো খুশির খবর! আলহামদুলিল্লাহ কোন আপত্তি নেই। মিষ্টিমুখ করেন।

নিন আপনিও করুন।


সবাই মিষ্টিমুখ করে খাওয়া-দাওয়া করে গল্প গুজব করতে করতে একটু ভালোই কাটছে সবার।


তো চলি অনেক তো হয়েছে। এখন আসি। আবার পরে দেখা হবে। ভালো থাকবেন আর আমার বউ মার দিকে খেয়াল রাখবেন।


আপনারাও ভালো থাকবেন।


নীলিমা তোমার নাম্বারটা দাও তো। আমি বাসায় গিয়ে বাঁদরটাকে নাম্বার দেবো।


 তোমাকে কল দিতে বলব। 


নীলিমা লজ্জায় দিয়ে দিল। কিভাবে মানা করবে প্রথম বিয়ে হচ্ছে আজকে প্রথম একটা জিনিস চাইল। এখন যদি না করি তাহলে তো সমস্যা হবে। বাবা-মা ক্ষেপে যাবে। সবাই ছোট হয়ে যাবে বা খারাপ ভাববে। তাই নীলিমা আর কিছু না ভেবে নাম্বারটা দিয়ে দিল।


নাম্বার নিয়ে ছেলের মা চলে গেল। ডিভোর্সি বউ


আর নীলিমা পড়ল এক মহাটেনশনে! কখন কল আসবে! কি জানি কি বলে! এই টেনসনে নীলিমা আছে!


চলবে....


আগের পর্বগুলো না পড়লে এই লিঙ্কে গিয়ে পড়ে নিন


পরবর্তী পর্ব পেতে চোখ রাখুন bdlovestory.com

Post a Comment

Previous Post Next Post