নারে মা কোন বাবার কাছে তার মেয়ে বোঝা না। সব বাবার কাছে তার মেয়ে রাজকন্যা। আমার কাছেও তুই রাজকন্যা। কিন্তু কি করব রাজকন্যাকেও তো একদিন অন্যের বাড়িতে দিতে হয়। সব বাবা-মা'ই চায় তার মেয়েকে রাজকন্যাকে অন্যের বাড়িতে রানী করে পাঠাতে। আমিও চাই রে মা। 


গল্প ডিভোর্সি বউ
লেখক সোহেল মাহমুদ
পর্ব ১

Bangla Romantic Sad Love Story | গল্প ডিভোর্সি বউ । পর্ব ২

গল্পের নাম ডিভোর্সি বউ | ডিভোর্সি বউ | ডিভোর্সি।  ডিভোর্স | Divorce | পর্ব ২ Bd love story | Bangla love story | valobasar golp, ভালবাসার গল্প , রোমান্টিক ভালবাসার গল্প | Bangla Romantic Sad Love Story


কিরে মা ? কি শুনি এগুলো? 

চুপচাপ করে আছি আমি।

মা তুই নাকি বিয়ে করবি না? 


হ্যাঁ আমি বিয়ে করবো না। আমি আরো পড়তে চাই প্লিজ বাবা আমাকে জোর করোনা। আমি আমার পড়াশোনা নিয়ে স্বপ্ন দেখি। আমি বড় কিছু হতে চাই।  ডিভোর্সি বউ

আমি অনেক বড় স্বপ্ন দেখি আমার স্বপ্নকে ভেঙ্গে দিওনা।

আমি তো তোমাদের বোঝা না তাহলে কেন আমাকে তাড়াতাড়ি যাচ্ছো।


আমি কি বেশি খাচ্ছি যে আমাকে এভাবে তাড়িয়ে দিচ্ছ। তোমাদের কি ভাতের অভাব পড়ছে আমি কি খুব বেশি খেয়ে ফেলছি! আমি কি খুব বেশি খরচ করছি? আমার পিছনে কি তোমাদের অনেক টাকা পয়সার চলে যাচ্ছে যে আমাকেও তাড়িয়ে দিচ্ছ? আমাকে বিয়ে দিয়ে দিতে চাচ্ছ পড়ালেখা নষ্ট করতে চাচ্ছ!



নারে মা কোন বাবার কাছে তার মেয়ে বোঝা না। সব বাবার কাছে তার মেয়ে রাজকন্যা। আমার কাছেও তুই রাজকন্যা। কিন্তু কি করব রাজকন্যাকেও তো একদিন অন্যের বাড়িতে দিতে হয়। সব বাবা-মা'ই চায় তার মেয়েকে রাজকন্যাকে অন্যের বাড়িতে রানী করে পাঠাতে। আমিও চাই রে মা। আমার এই আদরের নীলিমাকে অন্যের বাড়িতে রাজকন্যার করে বিয়ে দিয়ে পাঠাতে। bd love story


তাই তো মা তোকে বিয়ে দিয়ে পরের বাড়ি পাঠাতে চাচ্ছি। ছেলেটা দেখতে সুন্দর ফর্সা।  কাপড়ের ব্যবসা করে তাদের পরিবারও ভালো টাকা পয়সা আছে ধনী পরিবার।


 এমন ছেলে তো সব সময় পাবো না রে মা। তারা তোকেপছন্দ করেছেন। তারা তোকে দেখে পছন্দ করে বিয়ের জন্য জড়াজড়ি করছে। এমন সুযোগ হাতছাড়া করা যায় বল?এমন সম্বন্ধে কি বারবার আসবে!


তাই তোর কথা চিন্তা করে সব কিছুই চিন্তা করে তাদেরকে না করতে পারেনি। তারা আমার থেকে ওয়াদা নিয়ে নিয়েছে। আমি তাদের সাথে কথা দিয়ে দিয়েছি। এখন তুই বল আমি কি খুব অন্যায় করেছি। তোকে বিয়ে দিতে চায় তাদের সাথে কথা দিয়ে।


এখন তুই যদি না করে দিস। তাহলে আমি ওদের কাছে ছোট হয়ে যাব। তুই যদি আমাকে ছোট করে দেখতে চাস। তাহলে সমস্যা নেই আমি ওদেরকে না করে দিব। বল কি করবি


বল কি করবি বিয়েতে রাজি হবে নাকি মানা করে দেবো


বল রাজি কিনা


তখন আমি মাথা নাড়লাম  ডিভোর্সি বউ গল্প


এছাড়া কিবা করা ছিল। আমার বিয়েতে রাজি হওয়া ছাড়া আর কি করতাম। আমি বাবাকে জীবনের ভালোবাসা কারো কাছে বাবার মাথা নত করে বাবা ছোট তা মেনে নিতে পারতাম না। তাও সেটা যদি আমার নিজের জন্য হয়। তাই নিজের কথা চিন্তা না করে বাবার সম্মান এর কথা ভেবে বিয়েতে রাজি হয়ে গেলাম।


এখন বাবা অনেক খুশি হলো এবং খুশি হয়ে আমার রুম থেকে বেরিয়ে গেল আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে।


বাবাকে অনেক খুশি দেখে আমারও খুশি লাগলো। বাবা কে যে ভালবাসি তার বাবার খুশি আমার খুশি। মেয়ে বিয়েতে রাজি হওয়ায় বাবা আমার বেজায় খুশি। অন্ততপক্ষে নিজের রাজকন্যাকে অন্যের বাসায় কোন অধিকারে পাঠাতে পারে। হয়তো বাবা খুশি কিন্তু জানিনা সে খুশি টা কেমন থাকবে।


আমার রুম থেকে বাবা বেরিয়ে কাউকে যেন কল করছে


হ্যালো Bangla Romantic Sad Love Story

কে

নীলিমার আব্বু বলছি


আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন বিয়াই সাহেব?


ওয়ালাইকুম সালাম বিয়াইন সাহেব। জ্বি ভালো আছি আপনারা কেমন আছেন? বিয়ের আগেইত বিয়াই বানিয়ে দিলেন। 


সমস্যা নেই হবে তো আর কি। তো আপনাদের মতামত কি? মেয়ে কি রাজী? আপনার কি রাজী?  আপনারা আমরা রাজি থাকি তো  আমরা সামনে দিন তারিখ ঠিক করে কাবিন টা করে নেব। 


জী মেয়ে রাজি। আমরা রাজি। আপনারা সামনে ভালো দিনক্ষণ দেখে আসুন। বসে আমরা দিন তারিখ ঠিক করে নি।


জি ঠিক আছে। তাহলে রাখি আমরা সামনের সপ্তাহে আসছি। 


নীলিমা তার রুম থেকে সবই শুনতে পেল। সে কি বলবে কিছু বুঝতে পারছেনা। নির্বাক না পড়ছে রাজি না হতে না পারে রাজি হতে। তবুও বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে চুপচাপ রাজি হয়ে গেল। 


সামনের সপ্তাহে তার কাবিনের কথাবার্তা বলতে বরপক্ষ তাদের বাসায় আসছে। bangla love story


কথা বলার পর নীলিমার বাবা নীলিমার রুমে আবার আসলো কিরে মা তুই তো এখনো কিছু খেলি না। 

খাব না 

কেন?

না বাবা আমি খাব না আমার খিদে নেই।

 গত তিনদিন থেকে কিছু খাস না নাকি এখনো বলছিস ক্ষিদে নাই। আর জেদ করিস না কেন। যখন বিয়েতে রাজি হয়ে গেলি তাহলে কী করবি কেন নিজেকে আর কষ্ট দিস না।


কইগো খাবার আন নীলিমার জন্য। 

খাবার নিয়ে নীলিমার মার প্রবেশ


দে হাত ধুয়ে খেয়ে নে।

খাবোনা। বাবা চুপ করো না।

খেয়ে নে বলছি।

তারপর নীলিমার বাবা এবং মা জোর করে নীলিমার হাত ধুইয়ে  নীলিমাকে খাইয়ে দিলো।

নীলিমার চোখ ভিজে যাচ্ছে। কান্নারত অবস্থায় চোখ ভেজা অবস্থায় খাচ্ছে।


নীলিমার বাবার রুম থেকে যাওয়ার পর নীলিমা দরজা বন্ধ করে আবার বালিশটা নিয়ে উপরে ডুকরে কেঁদে উঠল।


এভাবেই হয়তো হাজারো নীলিমা নিজের কথা চিন্তা না করে বাবার কথা ভেবে বিয়েতে রাজি হয়! গল্প ডিভোর্সি বউ


এভাবেই সাত দিন চলে গেল। নীলিমা তেমন কারো সাথে কথা বলছে না। নিজের ঘরে থাকছে খাবার কম খাচ্ছে কিন্তু একেবারেই না না খেয়ে থাকছে না। 

এতে করে নীলিমার বাবা-মা একটু হাসি পাচ্ছে।


আজ নীলিমা কাবিনের কথা দিন তারিখ পাকাপাকি করতে বরপক্ষ নীলিমার বাসায় আসতেছে,,,,


চলবে....


পরবর্তী পর্ব পেতে চোখ রাখুন  bdlovestory.com এ


প্রথম পর্ব না পড়ে থাকলে এই লিংকে গিয়ে পড়ে নিন


Post a Comment

Previous Post Next Post